আমাদের যেকোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান মিষ্টি ছাড়া অসম্পূর্ণ। কিন্তু এই ‘মিষ্টি’ যখন নেশায় পরিণত হয়, তখনই শুরু হয় বিপদ। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস কেবল ওজনই বাড়ায় না, বরং শরীরের ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে ধীরে ধীরে অকেজো করে দেয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘সাইলেন্ট কিলার’।
কেন আজ থেকেই আপনার মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসে লাগাম টানা উচিত? জেনে নিন মারাত্মক ৫টি কারণ:
১. ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি
অতিরিক্ত চিনি বা ফ্রুক্টোজ লিভারে গিয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়। এর ফলে খুব অল্প বয়সেই ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার’-এর মতো সমস্যা দেখা দেয়। যারা মদ্যপান করেন না, তাদের লিভার নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এই অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস।
২. হার্টের শত্রু
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খান, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে প্রায় ৩৮% বেশি। এটি রক্তচাপ বাড়ায় এবং ধমনীতে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে, যা হার্ট অ্যাটাকের পথ প্রশস্ত করে।
৩. অকাল বার্ধক্য ও ত্বকের ক্ষতি
বেশি মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে দেয়। এর ফলে খুব কম বয়সেই ত্বকে বলিরেখা পড়ে এবং চামড়া ঝুলে যায়। অর্থাৎ, চিরকাল তরুণ থাকতে চাইলে মিষ্টির মায়া ত্যাগ করতেই হবে।
৪. মানসিক অবসাদ ও মেজাজ খিটখিটে হওয়া
মিষ্টি খেলে সাময়িকভাবে রক্তে ডোপামাইন বা ‘হ্যাপি হরমোন’ বাড়ে, কিন্তু সেই রেশ কেটে গেলেই শরীর অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বারবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা আসলে এক ধরণের আসক্তি, যা মস্তিস্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৫. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ডায়াবেটিস
বারবার মিষ্টি খেলে শরীর ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বাসা বাঁধে শরীরে, যা পরবর্তীকালে কিডনি ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
উপসংহার:
মিষ্টি মানেই বিষ নয়, যদি তা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৬ চামচের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। রসগোল্লা বা সন্দেশ খাওয়ার আগে মনে রাখবেন— আজকের সামান্য আনন্দ আগামীকালের বড় অসুখের কারণ হতে পারে।