সন্তান একটু মিষ্টি খেতে ভালোবাসলে অনেক বাবা-মা আদর করে তার পাতে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি তুলে দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অতিরিক্ত ভালোবাসাই শিশুর ভবিষ্যতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, শৈশবে চিনির অতিরিক্ত ব্যবহার কেবল দাঁতের ক্ষয় নয়, বরং মেদবৃদ্ধি এবং অকাল ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে কতটুকু চিনি নিরাপদ?
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের ওপর ভিত্তি করে চিনির পরিমাণ হওয়া উচিত ঠিক এইরকম:
| বয়স | চিনির দৈনিক পরিমাণ | চা চামচের হিসেবে |
| ২ বছরের নিচে | ০ গ্রাম | এক ফোঁটাও নয় |
| ২ থেকে ১৮ বছর | ২৫ গ্রামের কম | সর্বোচ্চ ৬ চা চামচ |
মনে রাখবেন: এই ‘৬ চামচ’ মানে শুধু আলাদা করে মেশানো চিনি নয়। বিস্কুট, চকোলেট, সিরিয়াল বা ফলের রসে যে চিনি লুকিয়ে থাকে (Hidden Sugar), সেটিও এই হিসেবের মধ্যেই পড়বে।
অতিরিক্ত চিনির ৪টি ভয়ংকর প্রভাব:
১. মেদ ও ওবেসিটি: চিনি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা শরীরে চর্বি জমতে সাহায্য করে।
২. অমনোযোগ ও মেজাজ খিটখিটে: অতিরিক্ত চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং কমে, ফলে শিশুর মনঃসংযোগ কমে যায় এবং সে খিটখিটে হয়ে পড়ে।
৩. দাঁতের সমস্যা: চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটায়, যা দাঁতে ক্যাভিটি বা গর্ত তৈরি করে।
৪. ভবিষ্যতে রোগের ঝুঁকি: ছোটবেলা থেকে চিনি খাওয়ার নেশা থাকলে বড় বয়সে ফ্যাটি লিভার ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন এই অভ্যাস?
-
লেবেল চেক করুন: বাজার থেকে কেনা কর্নফ্লেক্স বা হেলথ ড্রিঙ্কসের প্যাকেটে ‘সুগার’ বা ‘সুক্রোজ’ কতটা আছে তা দেখে কিনুন।
-
বিকল্প খুঁজুন: চিনির বদলে প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে খেজুর, কলা বা আপেলের পিউরি ব্যবহার করতে পারেন।
-
সফ্ট ড্রিঙ্কসকে ‘না’ বলুন: কোল্ড ড্রিঙ্কস বা প্যাকেটজাত ফলের রসের বদলে ডাবের জল বা বাড়িতে তৈরি টাটকা ফলের রস দিন।