মাথার উকুন কেবল ছোটদের নয়, বড়দের জন্যও অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর একটি সমস্যা। একবার চুলে উকুনের সংক্রমণ হলে তা সহজে পিছু ছাড়তে চায় না। বাজারে অনেক ধরনের উকুন নাশক শ্যাম্পু বা তেল পাওয়া গেলেও, সেগুলোতে থাকা কড়া কেমিক্যাল চুলের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই উকুন দূর করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
উকুন থেকে মুক্তি পাওয়ার সেরা ঘরোয়া টোটকাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
নিমের তেলের জাদুকরী প্রভাব: নিম তেলের কড়া গন্ধ এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান উকুন ধ্বংস করতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চুলে নিমের তেল লাগিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। এটি উকুনের ডিম নষ্ট করতেও সাহায্য করে।
রসুন ও লেবুর মিশ্রণ: রসুনের তীব্র গন্ধ উকুন সহ্য করতে পারে না। ৮-১০ কোয়া রসুন বেটে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে মেখে নিন। ৩০ মিনিট পর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
লবণ ও ভিনেগারের ব্যবহার: ১/৪ কাপ ভিনেগার এবং ১/৪ কাপ লবণের একটি মিশ্রণ তৈরি করে চুলে স্প্রে করুন। এবার ২ ঘণ্টা মাথা ঢেকে রাখুন। লবণের সোডিয়াম এবং ভিনেগারের অ্যাসিডিটি উকুনকে নিস্তেজ করে দেয়। এরপর চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে উকুন ঝরে পড়বে।
টি-ট্রি অয়েল: শ্যাম্পুর সাথে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে চুল ধুলে উকুনের বংশ বিস্তার বন্ধ হয়। এটি মাথার ত্বকের চুলকানি কমাতেও অত্যন্ত কার্যকর।
নারকেল তেল ও কর্পূর: নারকেল তেলের সাথে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে মাথায় ম্যাসাজ করুন। পরদিন সকালে সরু চিরুনি দিয়ে আঁচড়ালে মৃত উকুন অনায়াসেই বেরিয়ে আসবে।
বিশেষ সতর্কতা: উকুন দূর করার পর চিরুনি, বালিশের কভার এবং তোয়ালে গরম জল দিয়ে ফুটিয়ে ধুয়ে নিন। নাহলে পুনরায় সংক্রমণের ভয় থেকে যায়।





