প্রতিটি সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং সততা। বিয়ে হোক বা প্রেম, আমরা সবাই চাই একজন সৎ জীবনসঙ্গী। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, অনেক সময় আমরা ভুল মানুষের প্রেমে পড়ি। প্রতারণা নানা ধরনের হতে পারে, তবে কেউ যখন আপনার আবেগ নিয়ে খেলে বা ভালোবাসার ভান করে, সেই কষ্ট সহ্য করা সবচেয়ে কঠিন।
আপনার সঙ্গী কি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসেন, নাকি সম্পর্কের নামে অভিনয় করছেন? বুঝে নিন এই ৫টি লক্ষণ দেখে:
১. আপনি কি সবসময়ই ‘সেকেন্ড অপশন’?
একটি সুস্থ সম্পর্কে সঙ্গীর কাছে আপনিই হবেন অগ্রাধিকার। কিন্তু যদি দেখেন আপনার মতামত বা অনুভূতির চেয়ে সঙ্গী অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তবে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। আপনার চেয়ে অন্য কেউ তাঁর কাছে বেশি প্রাধান্য পাওয়া মানেই হলো, আপনার আবেগ তাঁর কাছে গুরুত্বহীন।
২. কারণ ছাড়াই যুদ্ধংদেহী মনোভাব
তুচ্ছ কারণে ঝগড়া বা তর্কে জড়ানো অনেক সময় স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই যদি সঙ্গী বারবার আপনার ওপর চড়াও হন, আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করেন কিংবা রাগের মাধ্যমে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে বুঝবেন এটি সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।
৩. মিথ্যার জালে বন্দি সম্পর্ক
মিথ্যা কোনো সম্পর্কের ভিত শক্ত করতে পারে না। অফিস বা কাজের অজুহাত দিয়ে বাইরে থাকা, নিজের অবস্থান গোপন করা কিংবা ছোটখাটো বিষয়ে প্রতিনিয়ত মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি আপনার কাছে স্বচ্ছ নন।
৪. ঝগড়ার ঠিক পরেই ‘অপ্রত্যাশিত’ ভালোবাসা!
এটি একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। সঙ্গী কি আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার কিছুক্ষণ পরেই হঠাত খুব বেশি ভালোবাসা দেখাতে শুরু করেন? অনেক সময় অপরাধবোধ ঢাকতে বা নিজের ভুল আড়াল করতে মানুষ অতি-ভালোবাসার ভান করে। এই ‘হট অ্যান্ড কোল্ড’ আচরণ মোটেও স্বাভাবিক নয়।
৫. একবার প্রতারণা মানেই বারবার?
যদি আপনি সঙ্গীর কোনো প্রতারণা ধরে ফেলেন এবং তিনি নানা অজুহাতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন, তবে সাবধান! বিশেষজ্ঞরা বলেন, যারা একবার আবেগের অমর্যাদা করে বা প্রতারণা করে, তাদের পক্ষে পুনরায় সেটি করা অস্বাভাবিক নয়। তাই এমন ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তববুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
উপসংহার: সম্পর্ক মানেই একে অপরের প্রতি সম্মান। যদি উপরের লক্ষণগুলো আপনার সঙ্গীর মধ্যে দেখতে পান, তবে নিজেকে প্রশ্ন করুন—আপনি কি সত্যিই সঠিক মানুষের সাথে আছেন? নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।