আমরা বাঙালি, আর বাঙালির পাতে দু’বেলা ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত থাকবে না, তা যেন ভাবাই যায় না। কিন্তু বর্তমানের ‘ডায়েট কালচার’-এ ভাতকে অনেকটা ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই মনে করেন ভাত খেলেই ওজন বাড়ে কিংবা ডায়াবেটিস হয়। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন অন্য কথা। নিয়ম মেনে খেলে ভাত আপনার শরীরের জন্য অন্যতম সেরা এবং উপকারী খাবার হতে পারে।
আসুন জেনে নিই ভাতের উপকারিতা এবং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা কিছু ধ্রুব সত্য:
১. শক্তির প্রধান উৎস
ভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, যা আমাদের শরীরের প্রধান জ্বালানি। এটি দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। যারা কায়িক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের জন্য ভাত একটি অপরিহার্য খাবার।
২. হজমে সাহায্য করে ও গ্লুটেন মুক্ত
ভাত খুব সহজেই হজম হয় এবং এটি পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। সবথেকে বড় সুবিধা হলো ভাত পুরোপুরি ‘গ্লুটেন মুক্ত’। তাই যাদের গ্লুটেন অ্যালার্জি বা হজমের সমস্যা আছে, তারা নিশ্চিন্তে ভাত খেতে পারেন।
৩. ক্যানসার ও আলঝেইমার প্রতিরোধ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফেনোলিক যৌগ, যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং ফ্রি র্যাডিক্যালস ধ্বংস করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। এমনকি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও ভাতের উপাদানগুলো বেশ কার্যকর।
ভাতের ‘অপবাদ’ ও আসল সত্যি:
অনেকে বলেন ভাত খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত খেয়ে ওজন বাড়ার প্রধান কারণ হলো ‘অতিরিক্ত পরিমাণ’। আপনি যদি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে ভাত খান, তবে এটি কখনোই মেদ জমাবে না।
ভাত খাওয়ার সঠিক নিয়ম:
পরিমাণ ঠিক রাখুন: পাতে ভাতের পরিমাণ যেন সবজির চেয়ে কম হয়। থালার অর্ধেকটা শাকসবজি দিয়ে ভরে বাকি অংশে অল্প ভাত ও প্রোটিন (মাছ/মাংস/ডাল) রাখুন।
লাল চালের ভাত (Brown Rice): সম্ভব হলে সাদা ভাতের বদলে লাল চালের ভাত খান। এতে প্রচুর ফাইবার ও ভিটামিন থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে।
মাড় না ফেলা: ভাতের মাড় ফেলে দিলে অনেক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। কুকার বা প্রেশার কুকারে ভাত রান্না করলে পুষ্টি বজায় থাকে।
রাতের চেয়ে দুপুরই সেরা: শরীর কার্বোহাইড্রেট হজম করতে সময় নেয়, তাই রাতে কম ভাত খেয়ে দুপুরবেলা ভাত খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।
উপসংহার: ভাত ক্ষতিকর নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ক্ষতিকর। আপনি যদি পরিমিত পরিমাণে এবং প্রচুর শাকসবজির সাথে ভাত খান, তবে এটি আপনাকে দীর্ঘকাল সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করবে।