ভাতের গ্রাস খেলেও কি নামছে না কাঁটা? গলার কাঁটা দূর করার এই অবাক করা কৌশলগুলো কি আপনার জানা আছে?

বাঙালি মানেই ভতে-ভাতে ভোজন আর পাতে সুস্বাদু মাছের পদ থাকা যেন একটি অবধারিত ও পরম আনন্দের বিষয়। দুপুরের পাতে বা রাতের ডিনারে গরম ভাতের সাথে সর্ষে ইলিশ, পাবদা, ভেটকি বা রুই মাছের ঝোল কার না ভালো লাগে! মাছের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই, কারণ এটি প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের এক অন্যতম প্রধান উৎস। তবে মাছ প্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সাধারণ একটি আতঙ্কের বিষয় হলো খাওয়ার সময় অজান্তেই গলায় মাছের কাঁটা বিঁজে যাওয়া। বিশেষ করে ছোট কাঁটাযুক্ত মাছ খাওয়ার সময় একটু আনমনাই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গলায় কাঁটা বিঁধলে সাময়িকভাবে যে তীব্র অস্বস্তি, গলা ব্যথা এবং আতঙ্ক তৈরি হয়, তা মুখের সমস্ত স্বাদের আনন্দ নিমেষেই মাটি করে দেয়। অনেক সময় কাঁটা বের করার জন্য ভয়ে মানুষ অস্থির হয়ে পড়েন এবং ভুলভাল পদ্ধতি প্রয়োগ করে গলা আরও বেশি ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেন। তবে সামান্য কিছু ঘরোয়া ও বিজ্ঞানসম্মত উপায় জানা থাকলে কোনো রকম ডাক্তার বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, গলায় ছোট বা মাঝারি আকারের মাছের কাঁটা বিঁধলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত মাথায় কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করা উচিত। প্রথম এবং অন্যতম জনপ্রিয় ঘরোয়া উপায় হলো এক টুকরো পাকা কলা বা একটানা বড় এক গ্রাস সেদ্ধ ভাত চিব না করে আস্ত গিলে ফেলা। আঠালো ও ভারী হওয়ার কারণে ভাত বা কলার সাথে কাঁটাটি সহজেই পেটের ভেতর নেমে যায়। দ্বিতীয়ত, লেবুর রস ও গরম জলের মিশ্রণ পান করাও অত্যন্ত কার্যকরী; লেবুর অম্লীয় গুণ গলায় বিঁধে থাকা কাঁটাকে নরম করতে সাহায্য করে, ফলে তা সহজেই সরে যায়। তৃতীয়ত, সামান্য একটু পাতিলেবুর গায়ে বিট লবণ মাখিয়ে চুষে খেলে লালাগ্রন্থি সক্রিয় হয় এবং গলা পিচ্ছিল হয়ে কাঁটা নিচে নেমে যায়। চতুর্থত, এক চামচ খাঁটি মধু বা সামান্য অলিভ অয়েল পান করলেও গলার ভেতরের অংশ পিচ্ছিল হয়ে যায়, যা কাঁটা দূর করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাঁটা বিঁধে থাকার কারণে যদি তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। একটু সচেতনতা ও ঘরোয়া উপায়ের সঠিক প্রয়োগই পারে আপনাকে এই আকস্মিক বিপদ থেকে নিরাপদে রাখতে।