বাজারে এখন হরেক রকমের সিলিং ফ্যান। দেখতে সুন্দর হলেই যে সেই ফ্যান ভালো হাওয়া দেবে বা টেকসই হবে, এমনটা ভাবা ভুল। একটি ভুল ফ্যান কেনার অর্থ হলো—বাতাস কম পাওয়া, ঘর ঘর আওয়াজ আর মাস শেষে চড়া বিদ্যুৎ বিল।
নতুন সিলিং ফ্যান কেনার সময় পকেট এবং স্বস্তি দুই-ই বাঁচাতে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন? দেখে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
১. বিএলডিসি (BLDC) টেকনোলজি: এখনকার যুগে সাধারণ ফ্যানের বদলে BLDC ফ্যান কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই ফ্যানগুলো সাধারণ ফ্যানের তুলনায় প্রায় ৬৫% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। এর সাথে রিমোট কন্ট্রোল সুবিধাও থাকে, যা আপনার জীবনকে সহজ করবে।
২. সুইপ সাইজ (Sweep Size): আপনার ঘরের আয়তন অনুযায়ী ফ্যান বাছুন। ছোট ঘরের জন্য (যেমন ৮x১০ ফুট) ৯০০ মিমি সুইপ সাইজ যথেষ্ট। কিন্তু বড় ঘরের জন্য ১২০০ মিমি বা ১৪০০ মিমি সাইজের ফ্যান প্রয়োজন। সঠিক সাইজ না হলে ঘরের কোণায় বাতাস পৌঁছাবে না।
৩. এয়ার ডেলিভারি (CMM): ফ্যান কেনার সময় তার প্যাকেটের গায়ে ‘CMM’ (Cubic Meters per Minute) চেক করুন। এই মান যত বেশি হবে, ফ্যান তত বেশি হাওয়া দেবে। ভালো মানের ফ্যানের এয়ার ডেলিভারি ২৩০ সিএমএম-এর আশেপাশে হওয়া উচিত।
৪. নয়েজ লেভেল ও মেটেরিয়াল: ফ্যান চলার সময় বিশ্রী আওয়াজ যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অ্যালুমিনিয়াম ব্লেডের ফ্যান কিনলে মরচে পড়ার ভয় থাকে না এবং এটি ওজনে হালকা হওয়ায় ঝোড়ো বাতাস দিতে সক্ষম।
৫. স্টার রেটিং: ফ্রিজ বা এসির মতো এখন ফ্যানেও স্টার রেটিং থাকে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সবসময় ৫-স্টার রেটিংযুক্ত ফ্যান বেছে নিন। শুরুতে দাম কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি আপনার টাকা বাঁচাবে।
৬. আরপিএম (RPM): ফ্যান কত দ্রুত ঘুরবে তা নির্ভর করে তার আরপিএম-এর ওপর। উচ্চ আরপিএম (৩৫০-৩৯০) মানেই দ্রুত ঘূর্ণন। তবে খেয়াল রাখবেন, আরপিএম বেশি হলেও ব্লেডের ডিজাইন সঠিক না হলে হাওয়া কম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের বোনাস টিপস: ফ্যান কেনার সময় অন্তত ২ থেকে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি আছে কিনা দেখে নিন। কপার উইন্ডিং মোটরযুক্ত ফ্যান দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাই কেনার আগে মেটেরিয়াল নিশ্চিত হয়ে নিন।