বাদাম খাওয়া কি আসলে ভালো নাকি বিষ? অতিরিক্ত খাওয়ার আগে এই ৫টি তথ্য অবশ্যই জানুন!

বাদামকে বলা হয় প্রকৃতির ‘পাওয়ার হাউস’। প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিনে ভরপুর এই খাবারটি হার্ট ভালো রাখা থেকে শুরু করে স্মৃতিশক্তি বাড়ানো—সবকিছুতেই অনবদ্য। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, ‘অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়’। ঠিক তেমনই অতিরিক্ত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস উপকারের চেয়ে আপনার শরীরের অপকারই বেশি করতে পারে।

অতিরিক্ত বাদাম খেলে কী কী বিপদ হতে পারে?

১. দ্রুত ওজন বৃদ্ধি: বাদামে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলেও এতে ক্যালরির মাত্রা অনেক বেশি। আপনি যদি সারাদিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বাদাম চিবোতে থাকেন, তবে খুব দ্রুত আপনার ওজন ও মেদ বেড়ে যেতে পারে।

২. হজমের সমস্যা ও পেট ফাঁপা: বাদামে প্রচুর ফাইবার থাকে। হঠাত করে বেশি ফাইবার শরীরে ঢুকলে পেটে গ্যাস, ডায়রিয়া বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে কাঁচা বাদাম বেশি খেলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে।

৩. পুষ্টি শোষণে বাধা: বাদামে থাকা ‘ফাইটিক অ্যাসিড’ শরীরকে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও জিঙ্কের মতো প্রয়োজনীয় মিনারেল শোষণে বাধা দেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে খনিজ উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

৪. কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি: কাজু বা আমন্ডের মতো কিছু বাদামে ‘অক্সালেট’ থাকে। রক্তে এই উপাদানের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

৫. অ্যালার্জির সমস্যা: অনেকেরই অজান্তে বাদামে অ্যালার্জি থাকে। অতিরিক্ত বাদাম খেলে ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তাহলে দিনে ক’টি বাদাম খাওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের দিনে এক মুঠো (প্রায় ৩০ গ্রাম) বা ৫-৭টি ভেজানো বাদাম খাওয়া যথেষ্ট। বাদাম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো রাতে জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া। এতে বাদামের টক্সিন বেরিয়ে যায় এবং হজম সহজ হয়।

মনে রাখবেন, ভাজা বা অতিরিক্ত নুন মেশানো বাদামের চেয়ে কাঁচা বা ভেজানো বাদাম শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy