ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ তো আছেই, কিন্তু সাথে যদি থাকে ছোট শিশু, তবে বিমান যাত্রা নিয়ে বাবা-মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। মাঝ আকাশে শিশু কাঁদলে বা অসুস্থ বোধ করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে আপনার খুদের প্রথম বিমান সফর হতে পারে দারুণ আরামদায়ক।
সফর শুরুর আগে ও সফরের সময় যা মাথায় রাখবেন:
১. কানের ব্যথা রোধে বিশেষ সতর্কতা:
বিমানের টেক-অফ এবং ল্যান্ডিংয়ের সময় বাতাসের চাপের পরিবর্তনে শিশুদের কানে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। এর ফলে তারা চিৎকার করে কাঁদে। এই সময় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান বা বোতলে দুধ/জল দিন। বাচ্চা একটু বড় হলে তাকে লজেন্স চুষতে দিন। এটি কানের ওপর চাপ কমায়।
২. হাতের কাছেই রাখুন ‘ইমারজেন্সি কিট’:
আপনার কেবিন ব্যাগে অন্তত দুই সেট অতিরিক্ত জামাকাপড়, ডায়াপার, ওয়েট টিস্যু এবং জীবাণুনাশক রাখুন। এছাড়া সাধারণ জ্বর, পেটের সমস্যা বা বমির কিছু জরুরি ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সাথে রাখুন।
৩. পছন্দের খেলনা ও খাবার:
বিমানের অচেনা পরিবেশে শিশু ভয় পেতে পারে। তার প্রিয় কোনো খেলনা বা গল্পের বই সাথে রাখুন যা তাকে ব্যস্ত রাখবে। ফ্লাইটের খাবারের ওপর নির্ভর না করে শিশুর পরিচিত কোনো হালকা খাবার ও ড্রাই ফ্রুটস সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. আরামদায়ক পোশাক:
বিমানের ভেতরে তাপমাত্রা অনেক সময় ওঠানামা করে। তাই শিশুকে সুতির আরামদায়ক পোশাক পরান, যার ওপর সহজে একটি সোয়েটার বা জ্যাকেট চাপানো যায়। সিন্থেটিক বা খুব টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন।
৫. সিট নির্বাচনে গুরুত্ব দিন:
সম্ভব হলে ‘বাল্কহেড’ সিট (Bulkhead Seat) বুক করার চেষ্টা করুন। সেখানে পা রাখার জায়গা বেশি থাকে এবং বাচ্চার জন্য ব্যাসিনেট (Bassinet) বা ছোট দোলনার সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়া জানলার ধারের সিট শিশুকে বাইরের দৃশ্য দেখিয়ে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করে।
পেশাদার টিপস:
চেক-ইন করার সময় এয়ারলাইন্স কর্মীদের জানান যে এটি আপনার শিশুর প্রথম সফর। অনেক সময় ছোট শিশুদের জন্য এয়ারলাইন্স থেকে বিশেষ গিফট বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বোর্ডিংয়ের সুবিধা দেওয়া হয়।
নোট: ফ্লাইটে বাচ্চা কাঁদলে ঘাবড়াবেন না বা বিরক্ত হবেন না। আপনি শান্ত থাকলে শিশুকেও শান্ত করা সহজ হবে। মনে রাখবেন, অধিকাংশ সহযাত্রীই বিষয়টি সহানুভূতির সাথে দেখেন।