কথায় বলে, ‘আপনি যা খান, আপনি তাই’। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, আপনার যা বয়স, আপনি সেটাই খাওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা বদলে যায়। ফলে এক সময়ের ‘প্রিয় খাবার’ অন্য বয়সে গিয়ে মারণরোগের কারণ হতে পারে। ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনসহ একাধিক গবেষণায় বয়সভেদে খাদ্যতালিকায় বদল আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
১. কুড়ি থেকে তিরিশ (২০-৩০ বছর): ফাস্ট ফুড ও এনার্জি ড্রিংকস
এই বয়সে মেটাবলিজম খুব ভালো থাকে, তাই আমরা যা খুশি খাই। কিন্তু গবেষণা বলছে:
এনার্জি ড্রিংকস: অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং চিনি এই বয়সে উচ্চ রক্তচাপ ও অনিদ্রার সমস্যা তৈরি করে।
অতিরিক্ত লবণ: চিপস বা জাঙ্ক ফুডে থাকা সোডিয়াম ভবিষ্যতে কিডনির সমস্যার বীজ বপন করে।
২. তিরিশ থেকে চল্লিশ (৩০-৪০ বছর): কফি ও কৃত্রিম চিনি
তিরিশের কোঠায় পা দেওয়া মানেই শরীর বুড়োটে হওয়ার প্রাথমিক ধাপ।
কৃত্রিম মিষ্টি (Artificial Sweeteners): গবেষণায় দেখা গেছে, এই বয়সে কৃত্রিম চিনি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
অ্যালকোহল ও কফি: এটি ঘুমের চক্র নষ্ট করে এবং ত্বকে দ্রুত বলিরেখা তৈরি করে।
৩. চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ (৪০-৫০ বছর): লাল মাংস ও ভাজাপোড়া
চল্লিশের পর শরীরের পেশির ক্ষয় শুরু হয় এবং হাড় দুর্বল হতে থাকে।
রেড মিট (খাসি বা গরুর মাংস): এতে থাকা সম্পৃক্ত চর্বি হৃদরোগ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
প্রসেসড ফুড: সসেজ বা সালামির মতো খাবার এই বয়সে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
৪. পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে (৫০+ বছর): সোডিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট
এই বয়সে হজম ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়।
সাদা ভাত ও ময়দা: রিফাইন করা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং আলসার বা পেটের সমস্যা তৈরি করে।
অতিরিক্ত কাঁচা লবণ: এটি উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা থেকে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, বয়স যাই হোক না কেন—পর্যাপ্ত জল, মরসুমি ফল এবং প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি। তবে বয়স ৩০ পেরোলেই নিয়মিত হেলথ চেকআপ এবং খাদ্যতালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়ানো উচিত।
উপসংহার: শরীর আপনার, তাই সচেতনতাও আপনারই হতে হবে। রসনা তৃপ্তির চেয়ে শরীরের চাহিদাকে গুরুত্ব দিলেই আপনি দীর্ঘায়ু হতে পারবেন। আজই আপনার ডায়েট চার্টে নজর দিন।