মনের কষ্ট সবসময় কান্নায় প্রকাশ পায় না। অনেক সময় হাসিখুশি মানুষের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে গভীর যন্ত্রণা। কাছের মানুষটি কখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তা বুঝতে পারা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সবাই সব কথা মুখে বলতে পারেন না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন মানুষের শরীরী ভাষা (Body Language) এবং আচরণের ছোট ছোট পরিবর্তনই বলে দেয় তার মন কতটা খারাপ।
সামনের মানুষের মন খারাপ কিনা, তা বোঝার সহজ ৫টি উপায়:
১. চোখের যোগাযোগ এড়িয়ে যাওয়া
মন খারাপ থাকলে মানুষ সাধারণত সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে। যদি দেখেন আপনার পরিচিত কেউ বারবার চোখ নামিয়ে নিচ্ছেন বা অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলছেন, তবে বুঝে নিন তিনি হয়তো কোনো বিষয় নিয়ে লজ্জিত, অনুতপ্ত বা প্রচণ্ড বিষণ্ণ।
২. আচমকা কথা কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
কেউ খুব চুপচাপ হয়ে গেলে আমরা সহজেই বুঝি তার মন খারাপ। কিন্তু এর উল্টোটাও হয়। অনেকে নিজের দুঃখ ঢাকতে অস্বাভাবিক বেশি কথা বলেন বা অযথা হাসেন। যদি দেখেন গম্ভীর কোনো মানুষ হঠাত খুব বেশি চটপটে হওয়ার ভান করছেন, তবে বুঝবেন তিনি কিছু একটা লুকানোর চেষ্টা করছেন।
৩. ক্ষুধা এবং ঘুমের পরিবর্তন
মন খারাপের প্রভাব সরাসরি আমাদের শরীরের ওপর পড়ে। যদি দেখেন কেউ খাওয়ার প্রতি অনীহা দেখাচ্ছেন বা হঠাত খুব বেশি খেতে শুরু করেছেন, তবে সেটি মানসিক চাপের লক্ষণ। পাশাপাশি ঘনঘন হাই তোলা বা সবসময় ক্লান্ত বোধ করাও মন খারাপের অন্যতম সংকেত।
৪. ছোট বিষয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া
মন ভালো না থাকলে মানুষের ধৈর্য কমে যায়। খুব সামান্য কোনো মজা বা ছোটখাটো ভুল কাজে যদি কেউ হঠাত রেগে যান বা কেঁদে ফেলেন, তবে বুঝতে হবে তার মনের ভেতরে অনেক আগে থেকেই কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট জমা হয়ে আছে।
৫. একাকীত্ব খোঁজা বা সব কিছুতে অনাগ্রহ
প্রিয় কোনো কাজ—যেমন গান শোনা, আড্ডা দেওয়া বা সিনেমা দেখা—সেসব বিষয়ে যদি কেউ হঠাত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তবে সেটি বড় ধরণের মন খারাপের লক্ষণ। সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা এবং নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া আসলে মনের একধরণের ‘ডিফেন্স মেকানিজম’।
এমন সময়ে আপনার করণীয় কী?
জোর করবেন না: “কী হয়েছে বলোই না” বলে তাকে বিরক্ত করবেন না।
পাশে থাকার আশ্বাস: শুধু বলুন, “আমি আছি তোমার পাশে, যদি কখনো বলতে ইচ্ছে করে আমি শুনবো।”
মজাদার কথা নয়: যার মন খারাপ তাকে জোর করে হাসানোর চেয়ে তার কথা মন দিয়ে শোনা বেশি কার্যকর।
উপসংহার: মানুষের মন বড়ই বিচিত্র। অনেক সময় একটা ছোট্ট সহমর্মিতার হাত বা শান্তভাবে পাশে বসা মানুষটিকেই পৃথিবী মনে হয়। আপনার চারপাশের মানুষগুলোর প্রতি যত্নশীল হোন, হয়তো আপনার একটু সচেতনতাই কারো বড় কোনো বিপদ রুখে দিতে পারে।