বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে সবথেকে জনপ্রিয় ব্রেকফাস্ট হলো ওটস। দ্রুত রান্না করা যায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে বলে ওজন কমাতে এর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু প্রতিদিন নিয়ম করে ওটস খেলে আপনার শরীরে ঠিক কী কী ঘটে? এর কি কোনো ক্ষতিকর দিক আছে? আধুনিক গবেষণা যা বলছে, তা জেনে রাখা জরুরি।
প্রতিদিন ওটস খেলে যা ঘটে:
১. ম্যাজিকের মতো ওজন কমায়: ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার, যা পাকস্থলীতে জেলির মতো স্তর তৈরি করে। ফলে দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না এবং অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকিং করার প্রবণতা কমে। এটি শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে দারুণ কার্যকর।
২. হার্ট থাকে সুরক্ষিত: ওটসে থাকা ‘বিটা-গ্লুকান’ নামক বিশেষ ফাইবার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমায়। নিয়মিত ওটস খেলে ধমনী পরিষ্কার থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
৩. রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ: এর গ্লাইকেমিক ইনডেক্স (GI) কম হওয়ায় এটি রক্তে চিনি বা সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না। তাই টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ওটস একটি আদর্শ খাবার।
৪. হজমশক্তির উন্নতি: প্রচুর ফাইবার থাকায় ওটস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। এতে পেট পরিষ্কার থাকে এবং শরীর হালকা লাগে।
সতর্কতা: অতিরিক্ত ওটস কি ক্ষতিকর?
যেকোনো ভালো জিনিসেরও কিছু মন্দ দিক থাকতে পারে যদি তা নিয়ম মেনে না খাওয়া হয়:
গ্যাসের সমস্যা: হঠাৎ করে প্রচুর ওটস খাওয়া শুরু করলে অনেকের পেটে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো।
পুষ্টির ভারসাম্য: প্রতিদিন শুধু ওটস খেলে শরীরে অন্য পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। তাই ওটসের সাথে ফল, বাদাম বা ডিম যোগ করে খাওয়া উচিত।
ইনস্ট্যান্ট ওটস এড়িয়ে চলুন: বাজারে পাওয়া ফ্লেভারড বা প্যাকেটজাত ‘ইনস্ট্যান্ট ওটস’-এ প্রচুর চিনি ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। সবসময় ‘রোলড ওটস’ বা ‘স্টিল কাট ওটস’ বেছে নিন।
উপসংহার: ওটস নিঃসন্দেহে একটি সুপারফুড। যদি আপনি চিনি ছাড়া এবং সঠিক পদ্ধতিতে ওটস খান, তবে এটি আপনাকে দীর্ঘকাল সুস্থ ও তারুণ্যদীপ্ত রাখতে সাহায্য করবে।