সস্তায় পাওয়া যায় বলে আমরা অনেকেই পেয়ারাকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, ভিটামিন সি, লাইকোপেন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ঠাসা এই ফলটি আপনার শরীরের জন্য এক ‘পাওয়ার হাউস’। গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে ত্বকের জেল্লা বাড়ানো—সবকিছুতেই পেয়ারা অনন্য।
আসুন জেনে নিই কেন প্রতিদিনের ডায়েটে একটি করে পেয়ারা রাখা জরুরি:
১. হবু মায়েদের সেরা বন্ধু: গর্ভাবস্থায় শরীরে ফলিক অ্যাসিডের অভাব হলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। পেয়ারায় প্রচুর ফলিক অ্যাসিড থাকে, যা মা ও সন্তান—উভয়কেই সুস্থ রাখে।
২. স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে: পেয়ারায় থাকা ভিটামিন B3 ও B6 মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মনোযোগ, বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
৩. ত্বক ও চুলের ভোলবদল:
ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস: পেয়ারা পাতা বেটে মুখে লাগালে ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণ কমে।
ফর্সা ও টানটান ত্বক: পেয়ারার খোসার সঙ্গে ডিমের কুসুম মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে ও বলিরেখা দূর হয়।
চুল পড়া বন্ধ: এর ভিটামিন সি স্কাল্পের পুষ্টি নিশ্চিত করে চুলের গোড়া শক্ত করে।
৪. হার্ট ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে পেয়ারা। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টকে রাখে সুরক্ষিত।
৫. ক্যান্সার প্রতিরোধে অদ্বিতীয়: পেয়ারায় থাকা লাইকোপেন, ভিটামিন সি এবং পলিফেনল শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেস্ট ও প্রস্টেট ক্যান্সার রুখতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
৬. ডায়াবেটিস ও পেটের সমস্যায়: প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এর গ্লাইকেমিক ইনডেক্স খুব কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে এটি খেতে পারেন।
৭. মানসিক চাপ ও স্ট্রেস কমায়: কাজের চাপে কি খুব ক্লান্ত? পেয়ারার ম্যাগনেসিয়াম আপনার পেশি ও স্নায়ুকে শান্ত করে মানসিক চাপ নিমেষে কমিয়ে দেয়।
৮. চোখ ও দাঁতের যত্ন: ভিটামিন এ-তে ভরপুর এই ফল দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং ছানি পড়া রোধ করে। এছাড়া পেয়ারা পাতা চিবুলে দাঁতের ব্যথা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
উপসংহার: প্রকৃতির এই সস্তা কিন্তু অমূল্য ফলটি নিয়মিত খেলে শুধু যে রোগব্যাধি দূরে থাকে তা নয়, বাড়ে পরম আয়ুও। তাই আজই আপনার খাবারের তালিকায় যোগ করুন একটি সুস্বাদু পেয়ারা।