মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ কথা কার না জানা। কিন্তু জেনেও কোনও লাভ আছে কি? সব ক্ষতির কথা জেনেও মানুষ তার থেকে বিরত থাকে না। তবে যতদিন কেউ পরিমিত মদ্যপান করে, স্বাভাবিক জীবনধারণ করছেন সেটা একপ্রকার। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন, যারা বেহিসেবি মদ্যপান করে নিজের এবং পরিবারের সর্বনাশ করেন, তাদের বিষয় একেবারে আলাদা। এঈ প্রতিবেদনে প্রকাশিত, তাদের জন্য নয়।
*অনেকেই বলেন মদ্যপান করলে কেউ কেউ অত্যন্ত সাবধানী হয়ে যান। অর্থাৎ তিনি কি করছেন, কাকে কি বলছেন, সবেতেই অতি সতর্ক থাকেন। কিন্তু বেশগিরভাগ ক্ষেত্রেই তার একেবারে উল্টো ছবি চোখে পড়ে।
*বিস্তারিত বলতে গেলে মদ্যপায়ীরা মদ্যপানের পরে স্নায়বিক শিথিলতার কারণে কথার বাঁধন হারিয়ে ফেলেন। বেশি কথা বলেন, কি বলছেন তার ওপরে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই অনেক সময়েই তাঁদের অসংলগ্ন কথা বলতে শোনা যায়। অনেকে আবার এই নিয়ে ঠাট্টা তামাশাও করেন পরবর্তীতে।
*বেশি কথা, সচেতনতার বিষয় তো আছেই। পাশাপাশি দেখা যায় অনেকেই রয়েছেন যারা মদ্যপান করলে ইংরাজিতে কথা বলতে শুরু করেন। স্বাভাবিক বাংলায় যারা সবসময়ে আড্ডা দেওয়া বা গল্পের মুডে থাকেন, এক-দু পেগ মদ খাওয়ার পরে তারাই ইংরাজি বলতে শুরু করে দেন হুড়মুড়িয়ে। কিন্তু কী তার কারণ? কেন এমন ইংরাজি বলেন তাঁরা?
*এই নিয়ে নানা সময়ে নানা চর্চা হয়েছে। বলা ভাল চর্চার শেষ নেই। ফলে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা এই নিয়ে বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। সেখানেই উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর দাবি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ ক্ষেত্রে মদ্যপান অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ।
*কেন এমন দাবি? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মদ্যপানের পরে মানুষ নিজের ক্ষমতা নিয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে যান। ফলে তিনি কী পারেন, তাঁর কত গুণ রয়েছে, সেই বিষয়টি সকলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তখনই অবচেতন মনে ইংরাজি বলা শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে বাংলার পাশাপাশি যিনি হিন্দিভাষী, তিনিও ইংরাজিতে কথা বলতে শুরু করেন।
*বিশেষজ্ঞ কমিটির এই মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে ‘Journal of Psychopharmacology’ ম্যাগাজিনে। এ ক্ষেত্রে মানসিক পরিবর্তন থেকেই এই ইংরাজী বলা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
*বিশেষজ্ঞদের দাবি, একটু অ্যালকোহল শরীরের ভেতরে প্রবেশ করার পরে মনস্তাত্বিক পরিবর্তন শুরু হয়। তখনই মানুষ অন্য ভাষায় (মাতৃ ভাষা ব্যতীত) কথা বলতে শুরু করেন।
*এ ছাড়াও, অনেকেই আছেন, যাদের ইংরাজি ভাষার ওপরে দখল নেই। ফলে অন্য কারও সামনে সেই ভাষায় কথা বলতে ইতস্তত বধ করেন বা লজ্জা পান। কিন্তু মদ্যপানের পরে স্নায়ু শিথিল হয়, নিজের কর্মক্ষমতার ওপরে নিয়ন্ত্রণ কমে, তখনই লজ্জা বা হীনমন্যতা দূরে সরিয়ে ইংরাজি বলতে শুরু করেন।
*তাহলে আপনি নিশ্চই বুঝতে পারলেন কেন মানুষ মদ্যপানের পরে আচমকা ইংরাজি বলতে শুরু করেন। এখন আপনার দায়িত্ব এই প্রতিবেদন যারা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বা অবগত নন সেভাবে, তাদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। যাতে সকলেই জানতে পারেন, তার পাশের লোক মদ্যপান করলে কেন ইংরাজি বলা শুরু করে দেন।