পরীক্ষার টেনশনে বাচ্চা অস্থির? প্যানিক অ্যাটাক সামলাতে বাবা-মায়ের জন্য রইল ৫টি মহৌষধ!

পরীক্ষার মরসুম মানেই ঘরে ঘরে এক অস্থির পরিবেশ। শুধু যে সিলেবাস শেষ করার চাপ তা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে ভালো করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে বাচ্চাদের মধ্যে তৈরি হয় ‘এক্সাম প্যানিক’ বা পরীক্ষার ভীতি। এই সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা জানা জিনিস ভুলে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু একজন অভিভাবক হিসেবে আপনার সঠিক পদক্ষেপই পারে সন্তানের এই মানসিক চাপ কমিয়ে তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে।

বাচ্চার প্যানিক সামলাবেন কীভাবে?

ভয় নয়, ভরসা দিন: পরীক্ষার নম্বরই জীবনের শেষ কথা নয়—এই বার্তাটি বাচ্চার মনে গেঁথে দিন। অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ বাচ্চার মনোযোগ নষ্ট করে। তাকে বুঝতে দিন যে আপনি তার চেষ্টার মূল্যায়ন করছেন, ফলাফলের নয়।

রিভিশনের সঠিক কৌশল: পরীক্ষার আগের রাতে নতুন কিছু না পড়ে যা শেখা হয়েছে তা ঝালিয়ে নিতে বলুন। বড় সিলেবাসকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়তে দিন। প্রতি ৪৫ মিনিট পড়ার পর ১০ মিনিটের বিরতি বাধ্যতামূলক করুন, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করবে।

প্রাণায়াম ও গভীর শ্বাস: যদি দেখেন বাচ্চা অতিরিক্ত ঘামছে বা প্যানিক করছে, তাকে ৩-৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস নিতে এবং ছাড়তে বলুন (Deep Breathing)। এটি তাৎক্ষণিকভাবে মস্তিষ্কের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে শান্ত হতে সাহায্য করে।

পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম: খালি পেটে পরীক্ষা দিতে বসলে বা রাত জেগে পড়লে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই পরীক্ষার আগে অন্তত ৭ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন।

নেতিবাচক তুলনা বন্ধ করুন: “অমুকের ছেলে তো এত পাচ্ছে”—এই ধরনের তুলনা বাচ্চার আত্মবিশ্বাস তলানিতে নিয়ে যায়। অন্যের সাথে নয়, বাচ্চার নিজের আগের পারফরম্যান্সের সাথে বর্তমানের তুলনা করে তাকে উৎসাহিত করুন।

বিশেষজ্ঞের মত: মনোবিদদের মতে, পরীক্ষার ভীতি কাটানোর সেরা উপায় হলো বাচ্চার সাথে খোলামেলা আলোচনা। তাকে বলতে দিন সে কোথায় ভয় পাচ্ছে। যখন একটি শিশু অনুভব করে যে তার পাশে কেউ আছে, তখন তার একাগ্রতা ও পড়ার মান বহুগুণ বেড়ে যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy