শীতের আমেজ আসুক বা না আসুক, শহর ছেয়ে গিয়েছে ধোঁয়াশায়। বাতাসে ধুলিকণা এবং বিষাক্ত গ্যাসের (PM 2.5) মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে আমাদের শিশুদের ওপর। বড়দের তুলনায় শিশুরা দ্রুত গতিতে শ্বাস নেয়, ফলে তাদের শরীরে দূষিত বাতাস প্রবেশ করে অনেক বেশি। ফলস্বরূপ, শৈশব থেকেই তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।
শিশুদের ইমিউনিটি ভেঙে পড়ার প্রধান কারণগুলো:
বাতাসে বিষাক্ত কণা: ধোঁয়াশায় থাকা সূক্ষ্ম ধুলিকণা শিশুদের ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে রক্তে মিশে যাচ্ছে। এটি শরীরের ন্যাচারাল ইমিউন রেসপন্সকে দুর্বল করে দিচ্ছে, ফলে সাধারণ সর্দি-কাশিও সারতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে।
ভিটামিন ডি-এর অভাব: দূষণ আর ধোঁয়াশার চাদর সূর্যরশ্মিকে আটকে দেয়। পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ায় শিশুদের শরীরে হাড়ের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য জরুরি ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারছে না।
অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার: একটু জ্বর বা কাশিতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর ফলে শরীরের ‘বন্ধু ব্যাকটেরিয়া’ মারা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইমিউনিটি কমিয়ে দিচ্ছে।
বাইরে খেলাধুলার অভাব: দূষণের ভয়ে বাচ্চাদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হচ্ছে। এতে বাইরের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা (Natural Adaptation) কমছে।
সন্তানকে সুস্থ রাখতে ৫টি জরুরি পদক্ষেপ:
১. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার: শিশুকে বেশি করে ভিটামিন সি যুক্ত ফল (যেমন আমলকী, লেবু) এবং রঙিন শাকসবজি খাওয়ান। এগুলো শরীরের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
২. হলুদ-দুধ ও গুড়: প্রাচীন এই টোটকা এখনও অব্যর্থ। হলুদের কারকিউমিন এবং গুড়ের আয়রন ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে এবং ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. সঠিক মাস্ক ব্যবহার: ধোঁয়াশা বেশি থাকলে বাইরে বেরোনোর সময় শিশুকে অবশ্যই N95 মাস্ক পরান। সাধারণ কাপড়ের মাস্ক বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধুলিকণা আটকাতে পারে না।
৪. ঘরে বাতাস শুদ্ধ রাখার গাছ: ঘরের ভেতরে স্নেক প্ল্যান্ট বা অ্যালোভেরার মতো গাছ রাখুন যা বাতাস থেকে বিষাক্ত গ্যাস শুষে নেয়।
৫. প্রচুর জল পান: শরীর হাইড্রেটেড থাকলে শ্বাসনালীর মিউকাস মেমব্রেন আর্দ্র থাকে, যা জীবাণু আটকাতে সাহায্য করে।