দুধ-চিনি নয়, লিকার চায়েই লুকিয়ে আছে দীর্ঘায়ুর গোপন চাবিকাঠি! গুণাগুণ জানলে আজই অভ্যাস বদলাবেন

চা প্রেমীদের সংখ্যা ভারতে অগণিত। কেউ পছন্দ করেন ঘন দুধ চা, আবার কেউ আদা-মশলা চা। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, যদি আপনি শরীরের সার্বিক উন্নতি চান, তবে ‘ব্ল্যাক টি’ বা লিকার চায়ের কোনো বিকল্প নেই। এক কাপ চিনি ছাড়া কালো চা আপনার শরীরে ওষুধের মতো কাজ করতে পারে।

কেন বিশেষজ্ঞরা ব্ল্যাক টি-কে ‘সুপার ড্রিঙ্ক’ বলছেন? দেখে নিন এর অবিশ্বাস্য ৭টি উপকারিতা:

১. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: ব্ল্যাক টি-তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ‘ফ্ল্যাভোনয়েড’, যা হার্টের ধমনীকে সচল রাখে। নিয়মিত এই চা পান করলে উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

২. অন্ত্রের সুরক্ষা ও হজমশক্তি: এতে থাকা পলিফেনল পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ব্ল্যাক টি-তে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) শক্তিশালী করে তোলে।

৪. মনঃসংযোগে ম্যাজিক: লিকার চায়ে থাকে এল-থেনিন (L-theanine) নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা মস্তিষ্কের আলফা অ্যাক্টিভিটি বাড়ায়। ফলে ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজে মনোযোগ বাড়ে।

৫. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি ছাড়া কালো চা রক্তে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৬. মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায়: দাঁতের ক্ষয় রোধ এবং ক্যাভিটি তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ব্ল্যাক টি দারুণ কার্যকর। এটি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধও দূর করে।

৭. ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: যদিও এটি নিরাময় নয়, তবে ব্ল্যাক টি-তে থাকা পলিফেনল কোষের মিউটেশন রুখতে সাহায্য করে, যা নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞের টিপস: ব্ল্যাক টি-র পূর্ণ উপকার পেতে এতে চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি যোগ না করাই ভালো। চাইলে সামান্য লেবুর রস বা আদা মিশিয়ে নিতে পারেন, যা এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে দেবে। তবে দিনে ৩-৪ কাপের বেশি চা পান না করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy