শরীরের সব অঙ্গের যত্নে আমরা সচেতন হলেও, দাঁতের বেলায় অধিকাংশ মানুষই উদাসীন। আমরা মনে করি দাঁতের ব্যথা মানেই সামান্য যন্ত্রণা বা একটা ক্যাভিটি। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন একদম উল্টো কথা। গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণের সাথে হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস এবং এমনকি ক্যানসারের মতো মারণরোগের গভীর সংযোগ রয়েছে।
কেন দাঁতের সমস্যাকে ‘মহাবিপদ’ বলা হচ্ছে?
দাঁত কেবল খাবার চিবানোর যন্ত্র নয়, এটি শরীরের প্রবেশদ্বার। এখানে সংক্রমণ হওয়া মানে রক্তপ্রবাহে ব্যাকটেরিয়া মিশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া।
হৃদরোগের ঝুঁকি: মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (Gingivitis) ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ডায়াবেটিস: দাঁতের সংক্রমণ থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্যানসারের সম্ভাবনা: মুখের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দীর্ঘস্থায়ী হলে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
কখন বুঝবেন বিপদ ঘণ্টা বাজছে?
যদি নিচের লক্ষণগুলো আপনার সাথে ঘটে, তবে অবিলম্বে দন্তচিকিৎসকের কাছে যান: ১. মাড়ি ফুলে যাওয়া বা রক্ত পড়া: ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত আসা মোটেও স্বাভাবিক নয়। ২. মুখে দুর্গন্ধ: দীর্ঘক্ষণ ব্রাশ করার পরেও যদি মুখে দুর্গন্ধ থাকে, তবে বুঝতে হবে ভেতরে পচন বা সংক্রমণ ধরেছে। ৩. ঠান্ডা বা গরমে শিরশিরানি: এনামেল নষ্ট হয়ে গেলে বা দাঁতে ফাটল থাকলে এই সমস্যা হয়। ৪. দাঁত নড়ে যাওয়া: বয়সের আগেই দাঁত আলগা হয়ে যাওয়া হাড়ের ক্ষয় বা গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ।
সুস্থ থাকার ‘গোল্ডেন টিপস’
দাঁতের সুরক্ষা মানেই গোটা শরীরের সুরক্ষা। মেনে চলুন এই সহজ নিয়মগুলো:
দুবার ব্রাশ: সকালে খাবারের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ব্রাশ করুন।
ফ্লসিং করুন: দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা ব্রাশ দিয়ে সবসময় পরিষ্কার হয় না, তাই ফ্লস ব্যবহার করা জরুরি।
চিনিযুক্ত খাবারে লাগাম: মিষ্টি বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় দাঁতের এনামেলের শত্রু। খাওয়ার পর ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন।
ছয় মাসের চেকআপ: কোনো সমস্যা না থাকলেও প্রতি ছয় মাসে একবার অন্তত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
উপসংহার: দাঁতের সমস্যাকে অবহেলা করে নিজের অজান্তেই বড় কোনো বিপদ ডেকে আনবেন না। আজই আপনার দাঁতের যত্ন নিন, কারণ একটি সুন্দর হাসির চেয়েও দামি হলো একটি সুস্থ শরীর।