বায়ুদূষণ, ধুলোবালি আর ঘরবন্দি জীবন—সব মিলিয়ে আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুস আজ হুমকির মুখে। অল্প হাঁটলে হাঁপিয়ে যাওয়া বা ঘনঘন শ্বাসকষ্ট হওয়া এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা সঠিক রাখতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ‘ব্রিদিং এক্সারসাইজ’-এর কোনো বিকল্প নেই।
আপনার ফুসফুসকে সতেজ ও শক্তিশালী রাখতে আজ থেকেই বাড়িতে শুরু করুন এই সহজ ৩টি ব্যায়াম:
১. ডায়াফ্রামাটিক ব্রিদিং (পেটের শ্বাস)
এটি ফুসফুসের নিচের অংশকে সচল করতে সাহায্য করে। এই ব্যায়াম করলে অক্সিজেন সরাসরি ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়।
পদ্ধতি: সোজা হয়ে বসুন বা শুয়ে পড়ুন। এক হাত বুকের ওপর এবং অন্য হাত পেটের ওপর রাখুন। নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিন যাতে আপনার পেট ফুলে ওঠে (বুক নয়)। এবার ঠোঁট সরু করে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এটি দিনে ৫-১০ বার করুন।
২. পার্সড লিপস ব্রিদিং (মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়া)
যাঁদের সামান্য পরিশ্রমেই দম ফুরিয়ে যায়, তাঁদের জন্য এটি মহৌষধ। এটি শ্বাসনালীতে জমে থাকা দূষিত বাতাস বের করে দেয়।
পদ্ধতি: স্বাভাবিকভাবে নাক দিয়ে ২ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন। এবার ঠোঁট দিয়ে শিস দেওয়ার মতো ভঙ্গি করে ৪ সেকেন্ড ধরে খুব ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এটি ফুসফুসের পেশিকে আরাম দেয়।
৩. ৪-৭-৮ টেকনিক (মানসিক প্রশান্তি ও শক্তি)
এই ব্যায়ামটি কেবল ফুসফুসকে শক্তিশালী করে না, বরং স্নায়ুচাপ কমিয়ে গভীর ঘুমেও সাহায্য করে।
পদ্ধতি: প্রথমে ৪ সেকেন্ড ধরে নাক দিয়ে শ্বাস নিন। এরপর ৭ সেকেন্ড শ্বাসটি বুকের ভেতর ধরে রাখুন (Hold)। সবশেষে ৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে মুখ দিয়ে সশব্দে শ্বাস ছেড়ে দিন। এটি ফুসফুসের বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়।
ফুসফুস ভালো রাখার অতিরিক্ত কিছু টিপস:
প্রচুর জল পান করুন: জল ফুসফুসের মিউকাস পাতলা রাখে, যা শ্বাস নিতে সাহায্য করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট খাবার: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং সবুজ শাকসবজি ফুসফুসের প্রদাহ কমায়।
ধূমপান বর্জন: ফুসফুসের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তামাক। সুস্থ থাকতে ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন।
বিশেষজ্ঞের মত: এই ব্যায়ামগুলো করার সময় যদি মাথা ঘোরে বা অস্বস্তি হয়, তবে সাথে সাথে থামিয়ে দিন। নিয়মিত অভ্যাসে ধীরে ধীরে আপনার শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হবে।