প্রাচীনকাল থেকেই বলা হয়, তামার পাত্রে জল রাখা মানেই তা ‘জীবন্ত জল’। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, এটি শরীরের তিন দোষ—বাত, পিত্ত ও কফ-এর ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তামার পাত্রে জল রাখলে সেখানে ‘অলিগোডাইনামিক’ (Oligodynamic) প্রভাব তৈরি হয়, যা জলকে প্রাকৃতিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তবে এই অভ্যাসের ভালো ও মন্দ—দুটি দিকই আপনার জানা প্রয়োজন।
তামার পাত্রে জল খেলে শরীরে যা যা ঘটে:
জীবাণু নাশ: তামার সংস্পর্শে এলে জলের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া (যেমন ই-কোলাই) ধ্বংস হয়ে যায়। এটি জলবাহিত রোগের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
হজমে জাদুর মতো কাজ: তামার জল পাকস্থলীর পেশি সঙ্কুচিত ও প্রসারিত করতে সাহায্য করে। ফলে আলসার, বদহজম এবং গ্যাসের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা দ্রুত আরাম পান।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: তামা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট ভাঙতে সাহায্য করে। তাই ডায়েটের পাশাপাশি এই জল খেলে ওজন দ্রুত কমে।
বার্ধক্য রোধ: এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং অকাল বার্ধক্য বা বলিরেখা দূর করে।
রক্তস্বল্পতা দূর: তামা শরীরকে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে, যা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করতে বিশেষ কার্যকর।
সাবধান! এই ভুলগুলি করছেন না তো?
উপকার পেতে গিয়ে অনেকেই নিজের ক্ষতি করে ফেলেন। তামার পাত্র ব্যবহারের সময় নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখুন:
অন্তত ৮ ঘণ্টা রাখুন: তামা থেকে পর্যাপ্ত গুণাগুণ পেতে হলে জল অন্তত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা ওই পাত্রে রাখা জরুরি। শুধু ঢেলে সঙ্গে সঙ্গে খেলে কোনো লাভ নেই।
টক জাতীয় কিছু রাখবেন না: তামার পাত্রে কখনোই লেবু জল, দুধ, দই বা ফলের রস রাখবেন না। তামার সঙ্গে এসিডের বিক্রিয়ায় বিষক্রিয়া হতে পারে।
অতিরিক্ত ব্যবহার বর্জন: সারাদিন শুধু তামার পাত্রের জল খাবেন না। শরীরে অতিরিক্ত তামা জমে গেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। দিনে ২-৩ গ্লাসই যথেষ্ট।
পরিষ্কার রাখা: তামার পাত্র নিয়মিত লেবু বা তেঁতুল দিয়ে পরিষ্কার করুন। তামা কালো হয়ে গেলে বা তাতে অক্সিডেশন জমলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: সকালে খালি পেটে তামার পাত্রে রাখা জল খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারী। তবে আপনার যদি কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকে, তবে শুরু করার আগে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।