আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কোনো কাজ হাতে পাওয়ার পর বেশ কয়েকদিন অলসভাবে কাটিয়ে দেন। কিন্তু যেই ডেডলাইন বা কাজ জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে, অমনি তাদের কাজে বিদ্যুৎ গতি চলে আসে। এক সপ্তাহের কাজ তারা শেষ করে ফেলেন মাত্র কয়েক ঘণ্টায়! আপনিও কি এই দলের পথিক? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে জেনে রাখুন— এটি কেবল আপনার স্বভাব নয়, এর পেছনে রয়েছে জটিল স্নায়বিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
কেন শেষ মুহূর্তে কাজের গতি বাড়ে?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একে বলা হয় ‘Panic Monster’-এর প্রভাব। যখন আমাদের হাতে প্রচুর সময় থাকে, তখন মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ আমাদের আনন্দদায়ক কাজে ব্যস্ত রাখে (যেমন সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং)। কিন্তু যখন সময় ফুরিয়ে আসে, তখন মস্তিষ্কে অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) এবং ডোপামিন (Dopamine) হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলি আমাদের শরীরকে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোডে নিয়ে যায়, যার ফলে মনোযোগ এবং কাজের ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
এর পেছনে থাকা মূল কারণগুলি:
পারফেকশনিজম বা নিখুঁত হওয়ার ভয়: অনেকে কাজ শুরু করতে ভয় পান এই ভেবে যে কাজটা নিখুঁত হবে কি না। শেষ মুহূর্তে যখন আর কোনো উপায় থাকে না, তখন সেই ভয় কাটিয়ে তারা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
চাপের মুখে সেরা পারফরম্যান্স: অনেকের মস্তিষ্ক উচ্চ চাপে (High Pressure) বেশি কার্যকর হয়। শান্ত পরিবেশে তারা একঘেয়েমি অনুভব করেন, কিন্তু চ্যালেঞ্জ সামনে এলে তাদের সৃজনশীলতা বেড়ে যায়।
পারকিনসন্স ল (Parkinson’s Law): এই তত্ত্ব অনুযায়ী, “কোনো কাজ শেষ করার জন্য যতটা সময় বরাদ্দ থাকে, সেই কাজটি ঠিক ততটাই দীর্ঘ হয়।” অর্থাৎ সময় বেশি থাকলে আমরা কাজটিকে জটিল করে ফেলি, আর সময় কম থাকলে মূল কাজে ফোকাস করি।
শেষ মুহূর্তের কাজের ঝুঁকি:
যদিও এই পদ্ধতিতে কাজ দ্রুত শেষ হয়, তবে এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস আপনার হার্ট এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া তাড়াহুড়ো করে করা কাজে ভুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
এই অভ্যাস থেকে বেরোনোর উপায়:
১. বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ফেলুন এবং প্রতিটির জন্য আলাদা ‘মিনি ডেডলাইন’ তৈরি করুন।
২. কাজ শুরু করার প্রথম ৫ মিনিট সবচেয়ে কঠিন। নিজেকে বলুন, “আমি মাত্র ৫ মিনিট কাজটা করব,” দেখবেন একবার শুরু করলে গতি চলে আসবে।
৩. কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নিন এবং ফোন দূরে রাখুন।
উপসংহার:
শেষ মুহূর্তে কাজ করা মানেই আপনি অলস নন, বরং আপনার মস্তিষ্ক হয়তো একটি বিশেষ উপায়ে কাজ করতে অভ্যস্ত। তবে সুস্থ থাকতে এবং কাজের মান ধরে রাখতে সময়ের কাজ সময়ে করার অভ্যাস করাই বুদ্ধিমানের কাজ।





