চকলেট মানেই কি কেবল দাঁতের ক্ষতি আর ওজন বৃদ্ধি? মোটেও না! যদি সেই চকলেট হয় ‘ডার্ক চকলেট’, তবে তা আপনার শরীরের জন্য ওষুধের চেয়ে কম কিছু নয়। চিনিযুক্ত সাধারণ মিল্ক চকলেটের তুলনায় ডার্ক চকলেটে কোকোর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা একে পুষ্টিগুণে ভরপুর করে তোলে।
কেন ডায়েটে ডার্ক চকলেট রাখা জরুরি? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এমন কিছু কারণ যা আপনাকে অবাক করবে:
১. হার্ট থাকে চনমনে: ডার্ক চকলেটে থাকা ‘ফ্ল্যাভোনয়েড’ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
২. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমায়: মন খারাপ? এক টুকরো ডার্ক চকলেট মুখে দিন। এটি শরীরে এন্ডোরফিন এবং সেরোটোনিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা মুহূর্তেই আপনার মেজাজ ভালো করে দেয় এবং উদ্বেগ বা ডিপ্রেশন কমায়।
৩. অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস: এতে ব্লুবেরি বা গ্রিন টি-র চেয়েও বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৪. ত্বক ও যৌবন ধরে রাখতে: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে এবং ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ডার্ক চকলেট দারুণ কার্যকর। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে, ফলে চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়ে না।
৫. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি: নিয়মিত ডার্ক চকলেট খেলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি প্রখর হয় এবং আলঝেইমার্সের মতো রোগের ঝুঁকি কমে। পরীক্ষায় বসার আগে বা জরুরি কাজের আগে এক টুকরো ডার্ক চকলেট আপনার মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিশেষজ্ঞের বিশেষ টিপস: উপকার পেতে হলে অন্তত ৭০% কোকো সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট বেছে নিন। তবে মনে রাখবেন, এটি পুষ্টিকর হলেও এতে ক্যালরি থাকে। তাই দিনে ২-৩ টুকরোর (প্রায় ৩০-৬০ গ্রাম) বেশি না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চকলেট এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।