ওজন কমানো একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসের নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভরশীল। কম ক্যালোরি গ্রহণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্ভব। তবে অবাক করার বিষয় হলো, পেটের বাড়তি মেদ বা ভুঁড়ি কমাতে রাতের ভালো ঘুম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের অভাব আপনার শরীরে সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া সম্প্রতি এমন কিছু অভ্যাসের কথা প্রকাশ করেছে, যা ঘুমের সময় অনুসরণ করলে দ্রুত ভুঁড়ি কমানো সম্ভব:
১. ঘর ঠান্ডা রাখুন: আমাদের শরীরে কিছু ভালো ফ্যাট প্রয়োজন, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রাউন ফ্যাট, যা ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু নামে পরিচিত, আমাদের শরীরকে পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে। ঠান্ডা তাপমাত্রায় এই ফ্যাট সক্রিয় হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ গরম জ্যাকেট হিসেবে কাজ করে। এটি আরও ব্রাউন ফ্যাট কোষকে সক্রিয় করে এবং ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করে। তাই ঘুমের সময় ঘর ঠান্ডা রাখলে তা অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে। শরীরে ব্রাউন ফ্যাটের পরিমাণ যত বেশি, সাদা ফ্যাটের পরিমাণ তত কম হবে।
২. ঘর অন্ধকার রাখুন: অতিরিক্ত ওজন এবং ভুঁড়ি কমাতে চাইলে অবশ্যই ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার করে ঘুমাতে হবে। শুধু বাতি বন্ধ করে দিলেও ঘর পুরোপুরি অন্ধকার নাও হতে পারে। প্রয়োজনে জানালার পর্দাগুলো ভালোভাবে টেনে দিন। সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘর শরীরকে মেলাটোনিন নামক ঘুম-বিস্তারকারী হরমোন উৎপাদন করতে সাহায্য করে। সামান্য আলোও শরীরে মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দিতে পারে। মেলাটোনিন আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে ব্রাউন ফ্যাটকে সাদা ফ্যাটে রূপান্তর হতে বাধা দেয়।
৩. ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি: গ্রিন টিতে সামান্য ক্যাফেইন থাকলেও, এটি ঘুমের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে। গ্রিন টিতে এমন কিছু যৌগ রয়েছে যা শরীরের ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। ইসিজিসি-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো বিপাক ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক। এছাড়াও, ক্যাফেইনও আমাদের শরীরের ব্রাউন ফ্যাটকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, এক কাপ গ্রিন টিতে এক কাপ কফির তিন ভাগের এক ভাগ ক্যাফেইন থাকে, যা ঘুমের উপর তেমন প্রভাব ফেলে না।
৪. ফোন বন্ধ রাখুন: ঘুমের সময় ফোন বা অন্য কোনো গ্যাজেট সঙ্গে রাখা আপনার স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুম কম হলে শরীর অতিরিক্ত খাবারের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে। এর ফলে সারাদিন ক্লান্তি বোধ হতে পারে এবং শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকতে হয়। এছাড়াও, ফোন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দেয়। আপনি যদি অতিরিক্ত ওজন ও ভুঁড়ি কমাতে চান তবে ঘুমের সময় আপনার ফোন দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. তাড়াতাড়ি ঘুমান: আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন আমাদের শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি ক্যালোরি পোড়ায়। যতক্ষণ নির্বিঘ্নে ঘুম হবে, তত বেশি ক্যালোরি বার্ন হবে। তাই চেষ্টা করুন রাতের খাবার তাড়াতাড়ি সেরে ঘুমাতে যাওয়ার। পর্যাপ্ত ঘুম কেবল ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
এই সহজ অভ্যাসগুলো ঘুমের সময় মেনে চললে আপনি কেবল ভালো ঘুমই পাবেন না, পাশাপাশি আপনার শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতেও এটি সহায়ক হবে। তাই আর দেরি না করে, আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করুন এবং সুস্থ জীবনের পথে একধাপ এগিয়ে যান।