ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে হাঁচি-কাশিতে জেরবার? যে জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে এটি! জানতেই পড়ুন

ঘর-দোর পরিষ্কার করতে গেলেই কি হাঁচি-কাশিতে অস্থির হয়ে পড়ছেন? তাহলে সম্ভবত আপনি ডাস্ট অ্যালার্জিতে ভুগছেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং তার দেওয়া ওষুধপত্র মেনে চলুন। তবে এর পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে নিশ্চিতভাবেই আরাম পাওয়া যাবে।

লক্ষণ:

ডাস্ট মাইট (ধুলোর মধ্যে থাকা আণুবীক্ষণিক জীব) ও অন্যান্য কারণে ডাস্ট অ্যালার্জি হতে পারে। এই সাধারণ অ্যালার্জির আক্রমণে নাক বন্ধ হয়ে যায়, শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়, বারবার হাঁচি আসতে থাকে, কাশি হয়, চোখ চুলকায় এবং লাল হয়ে জল পড়ে। এছাড়াও, গায়ে ও মুখে লালচে চুলকানিও দেখা দিতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি প্রকট হয়, আবার কেউ একাধিক সমস্যায় ভোগেন।

কী খাবেন:

খাদ্যতালিকায় অবশ্যই প্রোবায়োটিক রাখুন: দই, ঘোল ও ছানায় উপস্থিত প্রোবায়োটিক আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, তাদের এই ধরনের সংক্রমণ খুব সহজে কাবু করতে পারে না।
মধু: হাঁচি ও কাশিতে খুব কষ্ট পেলে এক চামচ অর্গানিক মধু খেয়ে নিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই উপকার পাবেন। খুব কাশি হলে গরম জলে এক চামচ অর্গানিক মধু মিশিয়ে ছোট ছোট চুমুকে খেলেও গলায় আরাম পাওয়া যায়।
গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন তৈরি হওয়া ঠেকাতে পারে। অ্যালার্জির কারণে ফোলা, লালচে ভাব ও চুলকানি কমাতেও গ্রিন টি-র প্রভাব রয়েছে। বর্ষাকালে অনেকেরই অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ে, তাই সেই সময় দিনে দু’কাপ গ্রিন টি পান করলে অ্যালার্জি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব।
ব্যবহার করুন:

ইউক্যালিপটাস তেল: ধুলোর কারণে সাইনাসের সমস্যা আরও বাড়ে। এক বড় বাটি গরম জলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল ফেলে ১০ মিনিট ভাপ নিলে নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং নাকের প্রদাহ কমে।
পিপারমিন্ট: এক কাপ গরম জলে এক মুঠো শুকনো পুদিনাপাতা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। তারপর ছেঁকে পান করুন। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও শ্বাসে অসুবিধার সমস্যা কমবে।
ঘি: সারা গায়ে চুলকানি বের হলে তুলোর মধ্যে এক চামচ খাঁটি ঘি নিয়ে হালকাভাবে লাগান, জ্বালা কমবে। খুব হাঁচি হলে এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ ঘি খেলেও আরাম পাওয়া যায়।
অন্যান্য সতর্কতা:

এর পাশাপাশি ঘর-দোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। সবসময় মাস্ক পরে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করুন। জানালার পর্দা, বিছানার চাদর ও বালিশের ওয়াড় সপ্তাহে একদিন গরম জলে ধুয়ে নিন। অনেকের বিড়াল, কুকুর, পাখির লোম বা সফট টয়ের রোঁয়া থেকেও অ্যালার্জি হয়, তাই সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। বর্ষাকালে ঘরের মধ্যে জামাকাপড় শুকাতে দেবেন না।