ঘন ঘন ফেসিয়াল করছেন? হিতে বিপরীত হওয়ার আগেই জেনে নিন মাসে কতবার করা জরুরি!

চকচকে, সতেজ আর উজ্জ্বল ত্বক কে না চায়! আর এই উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে অনেকেরই প্রথম পছন্দ হলো ‘ফেসিয়াল’। কিন্তু শখের এই রূপচর্চায় রাশ না টানলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নিয়ম না মেনে ঘন ঘন ফেসিয়াল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে যেতে পারে, এমনকি দেখা দিতে পারে অকাল বার্ধক্যের ছাপ।

তাহলে মাসে ঠিক কতবার ফেসিয়াল করা উচিত? কী বলছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা? জেনে নিন বিস্তারিত।

কেন ঘন ঘন ফেসিয়াল বিপজ্জনক?
ত্বকের একটি নির্দিষ্ট কোষচক্র (Skin Cell Cycle) থাকে। নতুন কোষ জন্মানো এবং মৃত কোষ সরে যাওয়ার এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ দিন। এই সময়ের আগে বারবার স্ক্রাবিং বা কেমিক্যাল ম্যাসাজ করলে ত্বকের ওপরের সুরক্ষাকবচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, লালচে ভাব বা র‍্যাশের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

ত্বকের ধরণ অনুযায়ী নিয়ম:
তৈলাক্ত ত্বক: যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণর প্রবণতা বেশি, তাঁরা মাসে একবার বা প্রয়োজনে দু’বার ক্লিন-আপ করাতে পারেন। তবে কড়া ফেসিয়াল এড়িয়ে চলাই ভালো।

শুষ্ক ত্বক: শুষ্ক ত্বকের জন্য ফেসিয়াল করার আদর্শ সময় হলো ৩০ থেকে ৪০ দিন অন্তর। এতে ত্বকের স্বাভাবিক তেল বা সিবাম বজায় থাকে।

সংবেদনশীল ত্বক: যাঁদের ত্বক খুব সেনসিটিভ, তাঁদের অন্তত ১-২ মাস অন্তর হালকা ফেসিয়াল করা উচিত।

কখন করাবেন না?
যদি আপনার ত্বকে খুব বেশি ব্রণ থাকে, কোনো ক্ষত থাকে কিংবা অ্যালার্জি থাকে, তবে ফেসিয়াল করানোর আগে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হুজুগে পড়ে পার্লারে গিয়ে কেমিক্যাল ব্যবহার করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

উপসংহার:
ত্বক ভালো রাখতে শুধু ফেসিয়াল নয়, প্রচুর জল খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি। মনে রাখবেন, ফেসিয়াল মানেই জৌলুস নয়, সঠিক বিরতিতে করা ফেসিয়ালই আপনার ত্বককে দীর্ঘকাল তরুণ রাখতে সাহায্য করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy