গ্যাসের ব্যথা ভেবে উড়িয়ে দেবেন না! অ্যাপেন্ডিক্সের এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে জেনেনিন এক্ষুনি

পেটে ব্যথা একটি অতি সাধারণ বিষয় হলেও, একে অবহেলা করলে তা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। গ্যাসের ব্যথা ভেবে আমরা অনেকেই পেটের বিভিন্ন ব্যথাকে গুরুত্ব দিই না। মূলত, অন্যান্য জটিলতার সঙ্গে এর উপসর্গ মেশে যাওয়ায় অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথা আলাদা করে চিনে ওঠা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু হঠাৎ একদিন অ্যাপেন্ডিক্সের তীব্র ব্যথা অসহ্য হয়ে ওঠে এবং রোগীর জীবন সংকটের মুখে পড়ে।
শরীরের আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ অ্যাপেন্ডিক্সকে অবহেলা করলে প্রাণহানির ঝুঁকি পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই এই ব্যথার লক্ষণগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথা:
অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথা সাধারণত তলপেটের ডান দিকে শুরু হয়। প্রথমে নাভির চারপাশে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যা ধীরে ধীরে তলপেটের ডান দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তলপেট ফুলে ওঠে। শুরুর দিকে ব্যথা কম থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। খাবার খাওয়ার পর ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ:
জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে, যদিও সবার ক্ষেত্রে জ্বর নাও আসতে পারে।
খাবারে অরুচি দেখা দেয়।
হজমে সমস্যা হয় এবং বমি হতে পারে।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পেট খারাপও হতে পারে।
হাঁটাচলা করলে, বসার বা ওঠার সময়, অথবা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পেটে ব্যথা অনুভব হতে পারে।
এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে ভুলেও দেরি করবেন না। দ্রুত একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ অ্যাপেন্ডিক্সের সংক্রমণকে অবহেলা করলে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিক্সের সফল অপারেশন করা সম্ভব। এই আধুনিক পদ্ধতিতে পেট না কেটে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিক্স বাদ দেওয়া হয়, ফলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তাই পেটের ব্যথাকে সাধারণ গ্যাসের ব্যথা ভেবে উড়িয়ে দেবেন না। অ্যাপেন্ডিক্সের লক্ষণগুলো চিনুন এবং দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন, নিজের জীবন বাঁচান। সচেতনতাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।