গর্ভাবস্থায় একজন নারীর খাদ্যাভ্যাস সরাসরি তার গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এই সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই জরুরি কিছু খাবার বর্জন করা। অনেক সময় আমাদের সাধারণ কিছু প্রিয় খাবারও গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য বিষের মতো কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা গর্ভাবস্থায় যে ৬টি খাবার থেকে দূরে থাকার কঠোর পরামর্শ দিচ্ছেন, দেখে নিন তার তালিকা ও কারণ:
১. কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ পেঁপে: গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে কাঁচা পেঁপে খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে থাকা ‘ল্যাটেক্স’ জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে, যা গর্ভপাতের (Miscarriage) ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে সম্পূর্ণ পাকা পেঁপে সীমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
২. অপাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: সরাসরি খামার থেকে আনা কাঁচা দুধ বা অপাস্তুরিত পনির (যেমন নরম সাদা চিজ) এড়িয়ে চলুন। এতে ‘লিস্টেরিয়া’ নামক ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা শিশুর জন্মগত ত্রুটি বা সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
৩. আনারস: আনারসে ‘ব্রোমেলেন’ নামক এনজাইম থাকে যা জরায়ুর মুখকে নরম করে দেয়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে আনারস খেলে অকাল প্রসবের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
৪. অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা-কফি): দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে শিশুর ওজন কম হতে পারে। অতিরিক্ত চা বা কফি পানের ফলে গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। এই সময় ভেষজ চা বা ফলের রস বিকল্প হিসেবে বেছে নিন।
৫. কাঁচা ডিম বা আধাসেদ্ধ মাংস: হাফ-বয়েল ডিম বা প্রপারলি রান্না না করা মাংসে ‘সালমোনেলা’ বা ‘টক্সোপ্লাজমা’র মতো পরজীবী থাকতে পারে। এটি মায়ের ফুড পয়জনিং ঘটানোর পাশাপাশি ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
৬. পারদযুক্ত মাছ (যেমন টুনা বা ম্যাকেরেল): কিছু সামুদ্রিক মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ (Mercury) থাকে। এই পারদ গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। সবসময় ছোট এবং টাটকা মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন।
বিশেষজ্ঞের বিশেষ পরামর্শ: যেকোনো খাবার ডায়েটে যোগ করার আগে আপনার গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। বাইরের খোলা খাবার বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান নিশ্চিত করুন।