অনেক সময় আমরা সামনের মানুষের কথা ঠিকমতো বুঝতে পারি না, বা মনে হয় সবাই যেন খুব নিচু স্বরে কথা বলছে। আমরা ভাবি হয়তো ক্লান্তি বা মনোযোগের অভাব, কিন্তু আসলে এটি হতে পারে আপনার শ্রবণশক্তি হারানোর প্রথম ধাপ। বর্তমানে হেডফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং শব্দ দূষণের কারণে অল্প বয়সেই অনেকে ‘হিয়ারিং লস’ বা শ্রবণ হ্রাসের শিকার হচ্ছেন। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যা আপনাকে চিরস্থায়ী বধিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিপদ ঘনিয়ে আসার ৫টি প্রধান লক্ষণ:
যদি নিচের এই লক্ষণগুলো আপনার বা আপনার পরিচিত কারও মধ্যে দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
কথার অস্পষ্টতা: সামনের মানুষটি কী বলছে তা বুঝতে অসুবিধা হওয়া বা মনে হওয়া যে তারা ‘বিড়বিড়’ করে কথা বলছে। বিশেষ করে ভিড় বা শোরগোলের জায়গায় কথা বুঝতে না পারা।
টিনিটাস বা কানে ভোঁ-ভোঁ শব্দ: কানের ভেতর সারাক্ষণ বাঁশির মতো বা গুনগুন শব্দ হওয়া। এটি শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম বড় সতর্কবার্তা।
টিভি বা মোবাইলের ভলিউম বাড়ানো: আপনার অজান্তেই কি টিভির আওয়াজ অনেক বাড়িয়ে রাখছেন যা অন্যদের কাছে অসহ্য লাগছে? এটি কানে কম শোনার একটি প্রাথমিক লক্ষণ।
একই কথা বারবার জিজ্ঞাসা করা: সাধারণ কথা বুঝতে না পেরে বারবার ‘কী বললেন?’ বা ‘আর একবার বলুন’ বলার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: কথা শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার ভয়ে মানুষের সাথে আড্ডা দেওয়া বা ভিড় এড়িয়ে চলার মানসিকতা তৈরি হওয়া।
কেন বাড়ছে এই সমস্যা?
উচ্চ শব্দে গান শোনা: দীর্ঘক্ষণ ইয়ারফোন বা হেডফোনে উচ্চ ভলিউমে গান শোনা কানের স্নায়ুর মারাত্মক ক্ষতি করে।
কানের ইনফেকশন: সর্দি-কাশি বা কানে জল ঢুকে হওয়া ইনফেকশন অবহেলা করলে শ্রবণশক্তি কমে যায়।
বার্ধক্যজনিত কারণ: বয়স বাড়ার সাথে সাথে কানের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে, তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় এটি সময়ের আগেই ঘটছে।