কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছেন? জিহ্বার কালো দাগ দূর হবে নিমেষেই; ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো কি জানতেন?

অনেক সময় মুখের সঠিক যত্নের অভাবে বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে জিহ্বায় কালো বা কালচে ছোপ দেখা দেয়। এটি কেবল দেখতেই খারাপ লাগে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং স্বাদে পরিবর্তনের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা মুখে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির ফলে এমনটা হতে পারে।

তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই! আপনার রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান ব্যবহার করেই খুব সহজে এই দাগ দূর করা সম্ভব। একনজরে দেখে নিন সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো:

১. বেকিং সোডার ম্যাজিক: বেকিং সোডা প্রাকৃতিকভাবে এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। সামান্য বেকিং সোডার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এবার টুথব্রাশের সাহায্যে জিহ্বার ওপর আলতো করে ২ মিনিট ঘষুন। এটি মরা কোষ ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে কালো দাগ সাফ করবে।

২. দারুচিনি ও লবঙ্গ: দারুচিনি এবং লবঙ্গের মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। জলে এই দুটি উপাদান ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে প্রতিদিন কুলকুচি বা গার্গল করুন। এটি নিয়মিত করলে জিহ্বার কালচে ভাব দ্রুত হালকা হয়ে যাবে।

৩. অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেল মুখের প্রদাহ এবং দাগ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। সামান্য একটু টাটকা অ্যালোভেরা জেল জিহ্বার ওপর লাগিয়ে কয়েক মিনিট রাখুন। এরপর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি জিহ্বাকে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখে।

৪. লবণের ব্যবহার: লবণ একটি চমৎকার ন্যাচারাল স্ক্রাব। জিহ্বার ওপর সামান্য নুন ছিটিয়ে টুথব্রাশ দিয়ে ধীরে ধীরে ঘষুন। এটি জমে থাকা ময়লা এবং মরা কোষ তুলে ফেলে জিহ্বাকে গোলাপি আভা দিতে সাহায্য করে।

৫. নিমের তেল বা নিমের জল: নিমের পাতা ফোটানো জল দিয়ে মুখ ধোওয়া বা কুলকুচি করা একটি প্রাচীন এবং ফলপ্রসূ পদ্ধতি। এটি জিহ্বার ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর করে কালো দাগ চিরতরে নির্মূল করে।

বিশেষজ্ঞের বিশেষ পরামর্শ: ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত দু’বার দাঁত মাজার সময় টাং ক্লিনার বা জিহ্বা পরিষ্কারক ব্যবহার করুন। প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন। তবে যদি এই কালো দাগে কোনো ব্যথা হয় বা রক্তক্ষরণ হয়, তবে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy