শরীর সুস্থ রাখতে তেতো সবজি উচ্ছের জুড়ি মেলা ভার। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ওজন কমানো—অনেক ক্ষেত্রেই আমরা চোখ বন্ধ করে ভরসা করি উচ্ছের রসের ওপর। কিন্তু আয়ুর্বেদ ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, নিয়ম না মেনে উচ্ছের রস খেলে উপকারের চেয়ে অপকারই হতে পারে বেশি।
কেন সাবধান হওয়া জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্ছের রসে এমন কিছু সক্রিয় উপাদান থাকে যা সবার শরীরের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ওষুধের ওপর থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
রক্তে শর্করার মাত্রা: উচ্ছে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয়। তাই যারা ইনসুলিন নেন বা সুগারের কড়া ওষুধ খান, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই রস খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার (সুগার কমে যাওয়া) ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
লিভারের ওপর প্রভাব: অতিরিক্ত পরিমাণে উচ্ছের রস লিভারের এনজাইমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি: অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য উচ্ছের রস এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি জরায়ুর সংকোচনে প্রভাব ফেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন: নিয়মিত অতিরিক্ত তেতো রস খেলে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া বা বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সঠিক নিয়ম কী? পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে ৩০ মিলিলিটারের বেশি উচ্ছের রস না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি এটি নিয়মিত ডায়েটে রাখা উচিত নয়। সরাসরি কাঁচা রস না খেয়ে হালকা গরম জল মিশিয়ে খেলে এর কার্যকারিতা বাড়ে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমে।
উপসংহার: প্রাকৃতিক পানীয় মানেই তা সবার জন্য নিরাপদ নয়। তাই আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।