একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি হয় তার শৈশবের খাদ্যাভ্যাসের ওপর। অনেক সময় বাবা-মায়েরা অভিযোগ করেন, শিশু সব খাবার খেতে চায় না বা তার সঠিক বৃদ্ধি হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর পাতে দামী খাবার নয়, বরং সঠিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সুষম খাবার থাকা জরুরি।
আপনার শিশুর হাড় মজবুত করতে এবং মস্তিষ্কের বিকাশে কোন খাবারগুলো সবচেয়ে কার্যকর? জেনে নিন বিস্তারিত:
১. প্রোটিনের সেরা উৎস (ডিম ও মাছ): শিশুদের পেশি গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। প্রতিদিন একটি করে সেদ্ধ ডিম দিন। সামুদ্রিক মাছ বা ছোট মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শিশুর চোখের জ্যোতি বাড়াতে এবং মস্তিষ্কের বিকাশে দারুণ কাজ করে।
২. দুগ্ধজাত খাবার (দুধ ও পনির): হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি প্রয়োজন। যদি শিশু শুধু দুধ খেতে না চায়, তবে তাকে দই, ছানা বা পনির দিতে পারেন। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক শিশুর হজমশক্তিও ঠিক রাখে।
৩. রঙিন ফল ও সবজি: বিভিন্ন রঙের সবজি (যেমন গাজর, পালং শাক, মিষ্টি কুমড়ো) ভিটামিন-এ এবং সি-এর বড় উৎস। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলের রস না দিয়ে সরাসরি ফল খাওয়ার অভ্যাস করান, এতে শরীরে পর্যাপ্ত ফাইবার পৌঁছাবে।
৪. দানাদার খাবার ও ডাল: ভাত, রুটি বা ওটসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের ডাল শিশুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ডালে থাকা আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড রক্তশূন্যতা রোধ করে এবং শিশুকে প্রাণবন্ত রাখে।
৫. বাদাম ও শুকনো ফল (Dry Fruits): কাজু, আমন্ড বা আখরোট হলো শক্তির পাওয়ার হাউস। এগুলো খেলে শিশুর স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বাদাম গুঁড়ো করে দুধ বা সুজির সাথে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞের বিশেষ টিপস: বাইরের প্যাকেটজাত খাবার, চকোলেট বা কোল্ড ড্রিঙ্কস থেকে শিশুকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন। এগুলো কৃত্রিম চিনিযুক্ত হওয়ায় শিশুর মেধা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। খাবারকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করুন, এতে শিশুর খাওয়ার আগ্রহ বাড়বে।