পৃথিবীর প্রতিটি শিশু আলাদা। কেউ সারাক্ষণ হইচই করে বেড়ায়, আবার কেউ নিজের মতো সময় কাটাতে ভালোবাসে। কিছু শিশু আছে যারা কখনো খুব প্রাণবন্ত, আবার পরক্ষণেই চুপচাপ হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের শিশুদের বলা হয় ‘অট্রোভার্ট’। তারা পুরোপুরি বহির্মুখী নয়, আবার পুরোপুরি অন্তর্মুখীও নয়। বরং তারা সামাজিকতা ও ব্যক্তিগত নির্জনতার এক চমৎকার ভারসাম্য মেনে চলে।
অট্রোভার্ট শিশুর বৈশিষ্ট্য চেনার উপায়:
গভীর বন্ধুত্ব: অট্রোভার্ট শিশুরা বড় কোনো বন্ধু-দলের চেয়ে একজন বা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এদের সাথে তারা অত্যন্ত গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তোলে।
ভিড় এড়িয়ে চলা: অতিরিক্ত শব্দ, হইচই বা অনেক মানুষের ভিড় তাদের দ্রুত মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দেয়। তাই তারা শান্ত পরিবেশ খুঁজে বেড়ায়।
নিজের জগত: স্কুলের কোলাহল শেষে বাড়ি ফিরে তারা কিছুক্ষণ একা থাকতে চায়। এটি তাদের ‘রিল্যাক্স’ হওয়ার উপায়। তারা এ সময় বই পড়ে, ছবি এঁকে বা নিজের মতো খেলা করে সময় কাটাতে পছন্দ করে।
বাবা-মায়ের করণীয়:
আপনার সন্তান যদি একটু অন্যরকম স্বভাবের হয়, তবে জোর করে তাকে বদলানোর চেষ্টা করবেন না। বরং নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
১. স্বভাবকে গ্রহণ করা: সব শিশুকে একই ছাঁচে হতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনার শিশুর নিজস্বতাকে সম্মান করুন।
২. স্পেস দিন: শিশু যখন বলে সে একা থাকতে চায়, তাকে সেই সময়টুকু দিন। এটি তাদের মানসিক প্রশান্তির জন্য জরুরি।
৩. ধৈর্য ধরুন: কোনো অনুষ্ঠানে বা নতুন কারো সঙ্গে পরিচয় করানোর সময় শিশুকে চাপ দেবেন না। তাকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন।
৪. মানসম্পন্ন সময়: শিশুর সঙ্গে একান্তে গল্প করুন, রান্না করুন বা একসঙ্গে হাঁটতে যান। এই একান্ত মুহূর্তগুলো তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে।
কখন চিন্তার বিষয়?
শান্ত স্বভাব কোনো সমস্যা নয়। তবে যদি দেখেন শিশুটি সবসময় মন খারাপ করে থাকছে, বন্ধুদের পুরোপুরি এড়িয়ে চলছে বা তার পছন্দের কাজগুলোতে আর আনন্দ পাচ্ছে না—তবে এটি উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।
মনে রাখবেন, অট্রোভার্ট হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। বরং এই শিশুরা সাধারণত অনেক বেশি গভীর চিন্তাশীল এবং আন্তরিক হয়। ধৈর্য ও সঠিক অনুপ্রেরণা পেলে আপনার এই অট্রোভার্ট শিশুই ভবিষ্যতে দারুণ সব গুণাবলীর অধিকারী হয়ে গড়ে উঠবে।





