অতিরিক্ত আদর কি সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে? জেনে নিন কেন ‘শাসন’ করাও ভালোবাসার অংশ

প্রতিটি বাবা-মা চান তাঁর সন্তান যেন পৃথিবীর সব সুখ পায়। এই চাওয়া থেকে জন্ম নেয় অঢেল ভালোবাসা। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অতি-আদর বা ‘প্যাম্পারিং’ অনেক সময় সন্তানের ব্যক্তিত্ব বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভালোবাসার আড়ালে শাসনের অভাব সন্তানকে আত্মকেন্দ্রিক, জেদি এবং বাস্তবজ্ঞানহীন করে তুলতে পারে।

কেন সন্তানকে পরিমিত শাসন করা জরুরি? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:

১. জেদ ও অসহিষ্ণুতা তৈরি হওয়া
যদি সন্তানের প্রতিটি ছোট-বড় আবদার কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পূরণ করা হয়, তবে তার মধ্যে ‘না’ শোনার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাস্তব জীবনে যখন সে কোনো কিছু পায় না, তখন সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কিংবা উগ্র আচরণ শুরু করে।

২. সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝতে না পারা
শাসন মানেই মারধর নয়, শাসন মানে হলো ভুল ধরিয়ে দেওয়া। শিশুকে যদি তার ভুল কাজের জন্য শাসন বা সতর্ক না করা হয়, তবে সে কখনোই সঠিক এবং ভুলের মধ্যকার সীমারেখাটি বুঝতে শিখবে না। এতে তার নৈতিক অবক্ষয় ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

৩. আত্মনির্ভরশীলতার অভাব
অতিরিক্ত আদরে বড় হওয়া শিশুরা সব কাজের জন্য বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে। ফলে নিজের সমস্যার সমাধান নিজে করার ক্ষমতা তাদের তৈরি হয় না। শাসন ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন শিশুকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে শেখায়।

৪. সামাজিক আচরণের অবনতি
যে শিশু বাড়িতে শাসন পায় না, সে বাইরের পরিবেশ বা স্কুলেও অন্যদের সম্মান করতে শেখে না। সে মনে করে পৃথিবীর সবকিছু তার মর্জিমতো চলবে। এই মানসিকতা তাকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: কেমন হবে আপনার শাসন?
মারধর নয়, আলোচনা: শাসন মানে শারীরিক নির্যাতন নয়। সন্তানের চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে তার ভুলটা বুঝিয়ে বলুন।

সীমানা নির্ধারণ করুন: দিনের কোন সময়ে পড়াশোনা আর কখন খেলাধুলা হবে—তার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা বাউন্ডারি সেট করে দিন।

পুরস্কার ও শাস্তি: ভালো কাজের জন্য যেমন প্রশংসা করবেন, তেমনি জেদ বা অন্যায় করলে তার প্রিয় কোনো কার্টুন দেখা বা খেলনা থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত করার মতো ‘নেতিবাচক রিইনফোর্সমেন্ট’ ব্যবহার করুন।

উপসংহার: গাছের ডাল যেমন সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য ছাঁটাই করতে হয়, তেমনি সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভালোবাসার পাশাপাশি শাসনের পরশও প্রয়োজন। অতিরিক্ত প্রশ্রয় যেন আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার না করে দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy