অকালে থমকে যেতে পারে হৃদস্পন্দন! আজই ত্যাগ করুন এই ৭টি অভ্যাস, নইলে বিপদ নিশ্চিত

একটা সময় ছিল যখন হার্ট অ্যাটাককে কেবল বার্ধক্যজনিত রোগ মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে তরুণ ও যুবকদের মধ্যে অকাল হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং কিছু দৈনন্দিন বদভ্যাস হৃদযন্ত্রকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে যে ৭টি অভ্যাস আপনাকে আজই বর্জন করতে হবে:

১. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া: পাতে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি হার্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। প্রক্রিয়াজাত খাবার বা চিপস-জাতীয় খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ।

২. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা: ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে কাজ করা বা শারীরিক পরিশ্রম না করা হার্টের জন্য বিষের সমান। এটি শরীরে মেদ বাড়ায় এবং রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়। প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস করুন।

৩. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে এবং স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। হার্টকে বিশ্রাম দিতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম জরুরি।

৪. ধূমপান ও তামাক সেবন: বিড়ি-সিগারেট বা যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য রক্তনালীকে শক্ত করে ফেলে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। অকালে হার্ট অ্যাটাকের জন্য ধূমপানকে সবচেয়ে বড় ‘ভিলেন’ মনে করা হয়।

৫. অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress): যারা সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা বা রাগের মধ্যে থাকেন, তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। নিয়মিত যোগব্যায়াম বা ধ্যানের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

৬. অনিয়ন্ত্রিত বাইরের খাবার: অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত ফাস্টফুড এবং রেড মিট (খাসি বা গরুর মাংস) শরীরে ‘ব্যাড কোলেস্টেরল’ বাড়িয়ে দেয়। এটি হৃদযন্ত্রের ধমনীতে ব্লকেজ তৈরির প্রধান উৎস।

৭. শারীরিক লক্ষণ উপেক্ষা করা: অনেক সময় বুকে সামান্য ব্যথা, ঘন ঘন হাঁপিয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘাম হওয়াকে আমরা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে ভুল করি। এই অবহেলাই বড় বিপদ ডেকে আনে। শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক সংকেত গুরুত্ব সহকারে নিন।

বিশেষজ্ঞের বিশেষ পরামর্শ: বছরে অন্তত একবার হার্ট চেকআপ করান। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ুন। মনে রাখবেন, আপনার একটু সচেতনতাই আপনার পরিবারকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy