অফিসের কাজ হোক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোলিং—আমাদের চোখ বিশ্রামের সময় পায় খুব কম। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের নীল আলো (Blue Light) চোখের রেটিনার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ বা ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’। সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই বিপদ থেকে চোখকে বাঁচানো সম্ভব।
কীভাবে কমাবেন চোখের ওপর এই বাড়তি চাপ? জেনে নিন কার্যকর উপায়গুলো:
১. ২০-২০-২০ নিয়ম (The 20-20-20 Rule)
এটি চোখের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়াম। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনে কাজ করার পর, ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশিগুলো শিথিল হয় এবং একঘেয়েমি কাটে।
২. বারবার চোখের পলক ফেলুন
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় আমরা সাধারণত স্বাভাবিকের চেয়ে কম পলক ফেলি। এতে চোখ শুকিয়ে যায় (Dry Eyes)। তাই সচেতনভাবে বারবার পলক ফেলার চেষ্টা করুন, যা চোখের মণি আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।
৩. সঠিক আলো ও দূরত্ব বজায় রাখা
অন্ধকার ঘরে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকানো চোখের জন্য মারণফাঁদ। ঘরের আলোর সাথে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে অন্তত ২০-২৫ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করুন।
৪. ব্লু কাট লেন্স বা নাইট মোড
ডিজিটাল স্ক্রিনের নীল আলো রুখতে ‘ব্লু কাট’ বা ‘অ্যান্টি-গ্লেয়ার’ চশমা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ফোনের সেটিংস থেকে ‘নাইট মোড’ বা ‘আই কমফোর্ট’ অপশনটি অন করে রাখলে চোখের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যায়।
৫. চোখের ব্যায়াম ও ঠান্ডা জলের ঝাপটা
কাজের ফাঁকে কয়েকবার চোখ বনবন করে ঘোরান এবং হাত দিয়ে চোখ ঢেকে কিছুক্ষণ অন্ধকার অনুভব করুন। কাজ শেষ করে চোখে পরিষ্কার ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন, এটি তাৎক্ষণিক আরাম দেয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ডায়েটে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, পালং শাক এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ বা বাদাম) রাখুন। যদি নিয়মিত মাথাব্যথা বা চোখ থেকে জল পড়ে, তবে দেরি না করে অপটোমেট্রিস্টের পরামর্শ নিন।