সন্তানকে কি জিনিয়াস বানাতে চান? আজই তাকে দিয়ে করান ঘরের কাজ! কারণ জানলে চমকে যাবেন

অধিকাংশ বাবা-মা চান তাদের সন্তান বড় হয়ে পড়াশোনায় তুখোড় হোক, বুদ্ধিমান হোক। আর এই চাওয়া থেকে আমরা শিশুদের সবসময় বইখাতা নিয়ে বসিয়ে রাখি, ঘরের কোনো কাজ করতে দিই না। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্স বলছে ঠিক উল্টো কথা! শিশুকে বুদ্ধিমান ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বইয়ের পাতার চেয়েও বেশি কার্যকর ঘরের ছোটখাটো কাজে তাদের অংশগ্রহণ।

ঘরের কাজ কীভাবে শিশুর বুদ্ধি বাড়ায়?

মস্তিষ্কের ব্যায়াম ও মাল্টি-টাস্কিং: যখন একটি শিশু জামাকাপড় ভাঁজ করে বা নিজের খেলনা গোছায়, তখন তার মস্তিষ্কে পরিকল্পনা ও সমন্বয় (Coordination) করার ক্ষমতা তৈরি হয়। এটি শিশুদের ‘এক্সিকিউটিভ ফাংশন’ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

গণিত ও বিজ্ঞানের হাতেখড়ি: রান্নায় সাহায্য করার সময় পরিমাণ বোঝা (যেমন—এক কাপ জল বা এক চামচ চিনি) শিশুর মধ্যে গণিতের প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে। এটি প্রথাগত শিক্ষার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ: ঘরের কাজে অংশ নিলে শিশুর মনে হয় সে পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে যে সার্থকতা রয়েছে, তা তার আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

সহানুভূতি ও টিমওয়ার্ক: একসাথে কাজ করার ফলে অন্যের প্রতি সাহায্য করার মানসিকতা বা এমপ্যাথি (Empathy) তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ছোটবেলায় ঘরের কাজে সাহায্য করে, কর্মজীবনে তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সফল হয়।

হবু মা ও নতুন অভিভাবকদের জন্য কিছু টিপস:

১. বয়স অনুযায়ী কাজ দিন: খুব ছোট শিশুকে শুধু খেলনা গোছাতে বলুন। একটু বড় হলে নিজের থালা ধোয়া বা গাছে জল দেওয়ার মতো সহজ কাজ দিন।
২. ভুল করলে বকবেন না: শিশু কাজ করতে গিয়ে কিছু ভেঙে ফেললে বা অগোছালো করলে ধৈর্য হারাবেন না। মনে রাখবেন, সে শিখছে।
৩. প্রশংসা করুন: কাজ শেষে তাকে বাহবা দিন বা ছোট কোনো পুরস্কার দিন। এতে সে কাজের প্রতি উৎসাহ পাবে।
৪. কাজকে মজার ছলে উপস্থাপন করুন: “চলো দেখি কে আগে ঘর গোছাতে পারে”—এভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজটিকে খেলার অংশ করে তুলুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy