ঝকঝকে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু সেই পছন্দের চুলই যখন মুঠো মুঠো ঝরতে শুরু করে, তখন ঘুম ওড়ে সবার। আমরা অনেকেই নামী কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখে বা সুগন্ধি পছন্দ করে শ্যাম্পু কিনি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার অজান্তেই ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করে নিজের চুলের বারোটা বাজাচ্ছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে চুল রুক্ষ হওয়া থেকে শুরু করে স্ক্যাল্পে ইনফেকশন এবং চিরস্থায়ী টাক পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আপনার শ্যাম্পুতে এই ‘শত্রুরা’ নেই তো?
শ্যাম্পু কেনার আগে বোতলের পেছনে থাকা উপাদানগুলো (Ingredients) অবশ্যই চেক করুন। যদি নিচের এই নামগুলো দেখেন, তবে সাবধান:
-
সালফেট (Sulfates): এটি ফেনা তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু চুলের স্বাভাবিক তেল কেড়ে নিয়ে চুলকে খড়খড়ে করে দেয়।
-
প্যারাবেন (Parabens): এটি চুলের ফলিকল নষ্ট করে দেয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বিড়ম্বিত করতে পারে।
-
সিলিকন (Silicones): সাময়িকভাবে চুল সিল্কি করলেও, এটি চুলের ওপর এমন স্তর তৈরি করে যা বাতাস ও আর্দ্রতা ঢুকতে বাধা দেয়।
নিজের জন্য সঠিক শ্যাম্পু বাছবেন কীভাবে?
সবার চুল এক নয়, তাই সমাধানও এক হতে পারে না। আপনার চুলের ধরন বুঝে বেছে নিন সঠিক সঙ্গী:
| চুলের ধরন | কেমন শ্যাম্পু খুঁজবেন? |
| তৈলাক্ত চুল (Oily) | যাতে ‘Volumizing’ বা ‘Strengthening’ লেখা থাকে। ঘন ক্রিম-যুক্ত শ্যাম্পু এড়িয়ে চলুন। |
| শুষ্ক চুল (Dry) | এতে ‘Moisturizing’ বা ‘Hydrating’ শ্যাম্পু দরকার। তেল সমৃদ্ধ শ্যাম্পু বেছে নিন। |
| খুশকি প্রবণ (Dandruff) | জিঙ্ক পাইরিথিওন বা কেটোকোনাজল যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। |
| রঙ করা চুল (Colored) | অবশ্যই ‘Sulfate-free’ বা কালার প্রোটেক্ট শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। |
পেশাদার টিপস:
শ্যাম্পু সরাসরি চুলে ঢালবেন না। একটি মগে সামান্য জল নিয়ে তাতে শ্যাম্পু মিশিয়ে নিয়ে তারপর চুলে ব্যবহার করুন। এতে রাসায়নিকের সরাসরি প্রভাব থেকে চুল রক্ষা পায়।
সতর্কবার্তা: বাজারচলতি সস্তা শ্যাম্পুর চেয়ে আয়ুর্বেদিক বা প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ শ্যাম্পু চুলের আয়ু বাড়াতে বেশি কার্যকর।