শরীরে জলের আকাল? এই ৫টি লক্ষণ দেখা দিলেই সাবধান হোন, নাহলে বিকল হতে পারে কিডনি!

শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই পানি। তাই সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই। কিন্তু কর্মব্যস্ততায় অনেক সময় আমরা পানি পান করতে ভুলে যাই। শরীরে পানির পরিমাণ সামান্য কমে গেলেও তার প্রভাব পড়ে আমাদের প্রতিটি অঙ্গে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডিহাইড্রেশন’। অনেক সময় আমরা তৃষ্ণা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিপাসা লাগার অর্থ হলো আপনার শরীর ইতিমধ্যে পানিশূন্যতায় ভুগতে শুরু করেছে।

আপনার শরীরে জলের অভাব ঘটেছে কি না, তা বুঝবেন যে লক্ষণগুলো দেখে:

১. প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন
পানির অভাব বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রঙ লক্ষ্য করা। যদি প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা লালচে হয়, তবে বুঝবেন শরীরে জলের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রস্রাবের রঙ হালকা খড় বা স্বচ্ছ হওয়া উচিত।

২. হুটহাট মাথাব্যথা ও ঝিমুনি
মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো পানির ওপর নির্ভরশীল। জল কমে গেলে মস্তিষ্ক সংকুচিত হতে শুরু করে, যা থেকে তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন হতে পারে। এছাড়া হুট করে বসা থেকে উঠলে মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি আসাও ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ।

৩. মুখের দুর্গন্ধ ও শুষ্কতা
শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে পর্যাপ্ত লালা তৈরি হয় না। লালা বা স্যালাইভা না থাকলে মুখে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বাড়ে, যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এছাড়া ঠোঁট ফাটা এবং মুখ শুকিয়ে আসা এর অন্যতম প্রধান উপসর্গ।

৪. ত্বক কুঁচকে যাওয়া ও স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস
ত্বকের জেল্লা এবং নমনীয়তা ধরে রাখতে জল অপরিহার্য। হাতের চামড়া টেনে ধরলে যদি তা দ্রুত আগের জায়গায় ফিরে না যায়, তবে বুঝতে হবে আপনার ত্বকের নিচের কোষে জলের অভাব রয়েছে।

৫. ক্লান্তি ও মাংসপেশিতে টান
কোনো কাজ না করেও কি আপনি ক্লান্ত বোধ করছেন? এটি জলের অভাব হতে পারে। জল কম থাকলে রক্তচাপ কমে যায় এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ বাড়ে। এছাড়া ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সের কারণে হাত-পা বা শরীরের মাংসপেশিতে টান (Cramps) ধরতে পারে।

জরুরি পরামর্শ: কেবল তেষ্টা পেলে জল খাবেন না। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করা প্রয়োজন। সাথে ডাবের জল বা রসালো ফল রাখলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy