বাজারে অনেক সময় কাঁচা মরিচের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, আবার অনেক সময় অতিরিক্ত মরিচ কিনে আনলে তা পচে নষ্ট হয়। এই সমস্যার সেরা সমাধান হলো কাঁচা মরিচ গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করা। এতে রান্নায় যেমন কাঁচা মরিচের আসল স্বাদ ও পুষ্টি পাওয়া যায়, তেমনই রান্না হয় ঝটপট। অভিজ্ঞ রাঁধুনীদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করলে এই গুঁড়ো এক বছর পর্যন্ত নতুনের মতো টাটকা থাকে।
কাঁচা মরিচ গুঁড়ো করার ও সংরক্ষণের ধাপে ধাপে পদ্ধতি:
১. প্রস্তুতি ও শুকানো
প্রথমে টাটকা কাঁচা মরিচগুলো ভালো করে ধুয়ে বোঁটা ছাড়িয়ে নিন। এবার একটি সুতির কাপড়ে মুছে জল সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে। মরিচগুলো মাঝখান থেকে চিরে দিলে দ্রুত শুকায়। রোদে দিয়ে বা ড্রায়ারে দিয়ে মরিচগুলো একদম মচমচে করে শুকিয়ে নিন। মনে রাখবেন, সামান্য রস থাকলেও গুঁড়ো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
২. গুঁড়ো করার কৌশল
মরিচগুলো যখন হাত দিয়ে চাপ দিলে ভেঙে যাবে, তখন বুঝবেন এটি গুঁড়ো করার জন্য তৈরি। এবার ব্লেন্ডারে বা হামানদিস্তায় দিয়ে মিহি করে গুঁড়ো করে নিন। গুঁড়ো করার সময় এক চিমটি লবণ মিশিয়ে দিতে পারেন, যা প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে।
৩. সংরক্ষণের আসল পদ্ধতি (এয়ারটাইট জার)
গুঁড়ো করা মরিচ সরাসরি জারে ভরবেন না। প্রথমে একটি বড় পাত্রে ছড়িয়ে দিয়ে ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা হতে দিন। এরপর একটি পরিষ্কার ও শুকনো কাঁচের জারে ভরে মুখ ভালো করে আটকে দিন। প্লাস্টিকের বদলে কাঁচের জার ব্যবহার করলে সুগন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৪. ফ্রিজিং ট্রিক
আপনি যদি এই গুঁড়ো ৬ মাসের বেশি সময় রাখতে চান, তবে জারটি ফ্রিজের স্বাভাবিক চেম্বারে রাখুন। এতে মরিচের উজ্জ্বল সবুজ রঙ এবং ঝাল একদম অটুট থাকবে। আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে জারের ভেতরে একটি ছোট টিস্যু পেপার দিয়ে রাখতে পারেন।
৫. ব্যবহারের নিয়ম
গুঁড়ো বের করার সময় সবসময় শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। ভিজে চামচ লাগলে ছত্রাক পড়ার ভয় থাকে।
প্রো-টিপস: মরিচ শুকানোর সময় সরাসরি কড়া রোদে না দিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে শুকান, এতে মরিচের ভিটামিন-সি এবং রঙ নষ্ট হয় না।