একটি বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রান্নাঘর। প্রবাদ আছে, সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে পরিষ্কার রান্নাঘরে। কিন্তু মশলার দাগ, তেলের চিটচিটে ভাব আর আদ্রতার কারণে রান্নাঘর খুব দ্রুত জীবাণুর প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। শুধু জল দিয়ে মুছলেই জীবাণু মরে না। পরিবারকে সুস্থ রাখতে রান্নাঘর পরিষ্কার ও হাইজেনিক রাখার কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখার ৫টি কার্যকরী নিয়ম:
প্রাকৃতিক ক্লিনার ব্যবহার (ভিনেগার ও বেকিং সোডা): রাসায়নিক ক্লিনার এড়িয়ে চলুন। এক কাপ জলে সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করুন। এটি দিয়ে সিঙ্ক, স্ল্যাব এবং চুলা মুছলে জেদি তেলের দাগ ও জীবাণু নিমেষেই দূর হবে।
কাটিং বোর্ড ও ছুরির পরিচ্ছন্নতা: সবজি বা মাছ-মাংস কাটার বোর্ড ব্যবহারের পর অবশ্যই গরম জল ও লেবু দিয়ে পরিষ্কার করুন। কাঠের বোর্ডে জীবাণু দ্রুত বাসা বাঁধে, তাই লেবুর রস ও লবণের মিশ্রণ দিয়ে ঘষলে তা একদম জীবাণুমুক্ত থাকে।
মুছার কাপড় ও স্পঞ্জ পরিবর্তন: আমরা যে কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে থালাবাসন ও স্ল্যাব মুছি, সেটিই সবচেয়ে বেশি নোংরা হয়। প্রতিদিন ব্যবহারের পর এগুলো গরম জলে ফুটিয়ে ধুয়ে নিন এবং প্রতি ১৫ দিন অন্তর পরিবর্তন করুন।
ডাস্টবিন বা ময়লার ঝুড়ি: রান্নাঘরের ডাস্টবিন অবশ্যই ঢাকনাযুক্ত হতে হবে। প্রতিদিন ময়লা পরিষ্কার করার পর ডাস্টবিনের ভেতরে সামান্য ব্লিচিং পাউডার বা ফিনাইল দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন যাতে দুর্গন্ধ ও মাছি না হয়।
ফ্রিজ ও আলমারির যত্ন: মাসে অন্তত দুবার ফ্রিজের ভেতরের তাকগুলো বের করে ধুয়ে নিন। নষ্ট খাবার বা পচা সবজি জমিয়ে রাখবেন না, কারণ এর থেকে হওয়া ছত্রাক সারা রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষ পরামর্শ: রাতে কাজ শেষ করার পর রান্নার স্ল্যাব শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। ভেজা ভাব থাকলে তেলাপোকা ও পিঁপড়ের উপদ্রব বাড়ে। সপ্তাহে একদিন পুরো রান্নাঘর গরম জলে লিকুইড সোপ মিশিয়ে ডিপ ক্লিন করার অভ্যাস করুন।





