মাঝরাতে হঠাৎ খিদে পাচ্ছে? সাধারণ মনে হলেও শরীরের ভেতরে দানা বাঁধছে না তো কোনো মরণব্যাধি?

সারাদিন ঠিকঠাক খাওয়ার পরেও কি ঠিক মাঝরাতে আপনার খিদে পেয়ে যাচ্ছে? অনেকেরই অভ্যাস গভীর রাতে উঠে বিস্কুট, চিপস বা ফ্রিজে রাখা মিষ্টি খাওয়া। একে ইংরেজিতে বলা হয় ‘নাইট ইটিং সিন্ড্রোম’। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এটি কেবলই কোনো বদভ্যাস না-ও হতে পারে। আপনার শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে এই মাঝরাতের খিদে।

কেন হতে পারে এটি বিপদের লক্ষণ?

১. ডায়াবেটিসের আগাম সংকেত:
রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার হঠাৎ করে কমে গেলে (Hypoglycemia) প্রচণ্ড খিদে পায়। যদি প্রায়ই মাঝরাতে খিদের চোটে ঘুম ভেঙে যায় এবং সঙ্গে ঘাম বা বুক ধড়ফড়ানি থাকে, তবে দ্রুত সুগার পরীক্ষা করানো জরুরি।

২. থাইরয়েডের সমস্যা:
শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে বিপাক হার বা মেটাবলিজম অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়। এর ফলে শরীর দ্রুত শক্তি খরচ করে ফেলে এবং অসময়ে প্রচণ্ড খিদে পায়।

৩. মানসিক অবসাদ ও স্ট্রেস:
দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকলে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন আমাদের মস্তিষ্ককে বারবার খাওয়ার সংকেত পাঠায়, যাকে অনেকে ‘ইমোশনাল ইটিং’ বলে থাকেন।

৪. অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া:
যারা পর্যাপ্ত ঘুমোন না, তাদের শরীরে ‘ঘেরলিন’ (ক্ষুধা বর্ধক হরমোন) বেড়ে যায় এবং ‘লেপটিন’ (তৃপ্তি দায়ক হরমোন) কমে যায়। ফলে রাতে জেগে থাকলে অহেতুক খিদের অনুভূতি তৈরি হয়।

৫. এসিডিটি বা আলসারের লক্ষণ:
পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে বা আলসারের সমস্যা থাকলে অনেক সময় পেটের ভেতর অস্বস্তি হয়, যাকে অনেকেই খিদের জ্বালা বলে ভুল করেন। কিছু খেলে সাময়িক আরাম মিললেও এটি আসলে রোগের লক্ষণ।

মুক্তির উপায় কী?
রাতের খাবারে প্রোটিন: ডিনারে পর্যাপ্ত ফাইবার ও প্রোটিন রাখুন, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করবে।

নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম: রাত জেগে মোবাইল না ঘেঁটে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোনোর অভ্যাস করুন।

জল পান: অনেক সময় ডিহাইড্রেশন বা তৃষ্ণাকে আমরা খিদে ভেবে ভুল করি। তাই শোওয়ার আগে পরিমাণমতো জল পান করুন।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি সপ্তাহে তিন দিনের বেশি আপনার মাঝরাতে খিদের কারণে ঘুম ভেঙে যায়, তবে ঘরোয়া টোটকায় সময় নষ্ট না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy