ভাজাভুজি খাবার আর অনিয়মিত রুটিন—এই দুয়ের প্রভাবে বর্তমানে ‘গ্যাস্ট্রিক’ যেন বাঙালির জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুঠো মুঠো এন্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম মিললেও, গোড়া থেকে এই সমস্যা দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এবং কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চললে কোনো ওষুধ ছাড়াই গ্যাস্ট্রিকের চিরস্থায়ী সমাধান সম্ভব।
গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনুসরণ করুন এই নিয়মগুলো:
জল পানের সঠিক নিয়ম: খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা পরে জল পান করার অভ্যাস করুন। খাবারের মাঝখানে অতিরিক্ত জল পান করলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গ্যাস তৈরি হয়।
খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান: তাড়াহুড়ো করে খাবার খেলে খাবারের সাথে পেটে হাওয়া ঢুকে যায়। তাই খাবার সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খান, যাতে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস হজমে সহায়তা করতে পারে।
রাতের খাবারে সতর্কতা: ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। খাওয়ার সাথে সাথেই শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা বুক জ্বালাপোড়ার প্রধান কারণ।
প্রাকৃতিক ডিটক্স পানীয়: আদা কুচি দিয়ে ফোটানো জল বা মৌরি ভেজানো জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই উপাদানগুলো পেটের গ্যাস শুষে নিতে এবং হজম ক্ষমতা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে।
বর্জন করুন ক্ষতিকর অভ্যাস: অতিরিক্ত চা-কফি পান, ধূমপান এবং প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। এগুলো পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ পরামর্শ: প্রতিদিন সকালে অন্তত ১৫-২০ মিনিট যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের বিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে, ফলে প্রাকৃতিকভাবেই গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে।





