প্রতি মাসে পিরিয়ডের দিনগুলোতে অসহ্য পেটে ব্যথা, কোমরে যন্ত্রণা আর শারীরিক অস্বস্তিতে ভোগেন অধিকাংশ নারী। অনেকেই এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ঘনঘন ‘পেনকিলার’ বা ব্যথানাশক ওষুধ খান, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, পিরিয়ডের এই দিনগুলোতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনার পেশির খিঁচুনি বা ক্র্যাম্পস কমিয়ে দিতে পারে ম্যাজিকের মতো। জেনে নিন পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে কোন খাবারগুলো আপনার সেরা বন্ধু হতে পারে:
১. ডার্ক চকোলেট (Dark Chocolate)
পিরিয়ডের সময় ডার্ক চকোলেট খাওয়া কেবল বিলাসিতা নয়, এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম পেশিকে শিথিল করে এবং এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে আপনার মনকে শান্ত রাখে। ফলে ব্যথার অনুভূতি অনেক কমে যায়।
২. কলা ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল
পিরিয়ডের সময় শরীরে জল জমে যাওয়া বা ‘ব্লোটিং’-এর কারণে অস্বস্তি বাড়ে। কলায় থাকা পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি-৬ পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। ফলে পেটে মোচড় দেওয়া ব্যথা কম অনুভূত হয়।
৩. আদা চা (Ginger Tea)
আদা একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, এক কাপ গরম আদা চা পিরিয়ডের শুরুর দিনগুলোতে ওষুধের মতোই কাজ করে। এটি জরায়ুর রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা ব্যথার প্রধান কারণ।
৪. আমন্ড ও আখরোট
বাদামে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই। ওমেগা-৩ পিরিয়ডের সময় শরীরের প্রদাহ কমায় এবং জরায়ুর পেশিকে নমনীয় রাখে। এক মুঠো বাদাম আপনাকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেবে এবং ক্র্যাম্পস কমাতে সাহায্য করবে।
৫. পর্যাপ্ত জল ও ঈষদুষ্ণ পানীয়
শুনতে অবাক লাগলেও, শরীরে জলের অভাব থাকলে পিরিয়ডের ব্যথা আরও বেড়ে যায়। এই সময় প্রচুর পরিমাণে জল এবং ডাবের জল পান করুন। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে ঈষদুষ্ণ জল পান করলে রক্ত চলাচল সচল থাকে এবং পেশির খিঁচুনি কমে।
কী এড়িয়ে চলবেন?
ব্যথা কমাতে চাইলে পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ক্যাফেইন (কফি), লবনাক্ত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। এগুলো শরীরে জল ধরে রাখে এবং প্রদাহ বাড়াতে পারে।
পরামর্শ: যদি ব্যথা মাত্রাতিরিক্ত হয় এবং সাধারণ খাবারেও না কমে, তবে অতি অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।