ছোটবেলা থেকে নাক ও কান ফোঁড়ানোর জন্য অনেকেই ভরসা রাখেন পার্লারের উপর। তবে জানেন কি, পার্লারে গিয়ে এই সামান্য কাজটিও ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ? এর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস সি ভাইরাস। এই ভাইরাস একবার শরীরে প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে লিভার তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে, কারণ এটি লিভারের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সেলুন কিংবা পার্লারে ব্যবহৃত জীবাণুমুক্ত না করা সুঁই, গানশট অথবা ধারালো কাঁচি-রেজারের মাধ্যমেও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।’ হেপাটাইটিস সি ভাইরাস লিভারের একাধিক জটিল রোগের কারণ। পার্লার বা সেলুনে ব্যবহৃত একই সুঁই বা কাঁচি বহু মানুষের শরীরে ব্যবহার করা হয়। ফলে যদি কোনো হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত সেই যন্ত্রে লেগে থাকে এবং সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা না হয়, তবে ভাইরাসটি সেখানে জীবিত থাকতে পারে।
‘পরবর্তীতে যখন ওই একই যন্ত্র দিয়ে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তির শরীর ছিদ্র করা হয়, তখন হেপাটাইটিস সি ভাইরাস খুব সহজেই তার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই পার্লারে গিয়ে নাক-কান ফোঁড়ানোর বিষয়ে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। শুধু তাই নয়, ট্যাটু করার ক্ষেত্রেও একই রকম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’
১৯৭৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে এই বিষয়ে অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণাগুলি থেকে জানা যায়, বডি পিয়ার্সিংয়ের কারণে ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যথেষ্ট বেশি। এই ১২টি গবেষণার মধ্যে ৬টিতে দেখা গেছে, হেপাটাইটিস সেরোপোসিটিভিটি উল্লেখযোগ্যভাবে কান ছিদ্র করার সঙ্গে যুক্ত।
হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষিত থাকতে চিকিৎসকরা এইচবিএসএজি স্ক্রিনিং এবং টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, লিভারে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে সেটি দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস হিসেবে গণ্য হয়। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, ফ্যাটি লিভার এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাস অন্যতম। এই রোগগুলি লিভারের বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে। এর ফলে লিভারের স্বাভাবিক আকার ও আকৃতি নষ্ট হয়ে যায় এবং এটি ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস থেকে লিভার ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।
তাই সামান্য নাক বা কান ফোঁড়ানোর জন্য পার্লারের অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহারের ঝুঁকি না নিয়ে, স্বাস্থ্যসম্মত এবং জীবাণুমুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকুন।