পকেটে টান কিন্তু পাহাড়ে মন? বসন্তের ছুটিতে বাংলার এই ৫টি রুটে ঘুরে আসুন নামমাত্র খরচে!

বসন্তের পলাশ আর হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা—এই দুয়ের টানেই পর্যটকরা এখন ঘরছাড়া। তবে হাইকিং মানেই যে বিশাল খরচ আর অনেক দিনের ছুটি, তা কিন্তু নয়। আমাদের হাতের কাছেই পশ্চিমবঙ্গে এমন কিছু রুট রয়েছে, যেখানে নামমাত্র খরচে আপনি পেতে পারেন রোমাঞ্চের স্বাদ। এবারের বসন্তে আপনার গন্তব্য হতে পারে এই ৫টি জায়গা:

১. অযোধ্যা পাহাড় (পুরুলিয়া):
বসন্ত মানেই পুরুলিয়ার পলাশ। বামনি জলপ্রপাত থেকে শুরু করে ময়ূর পাহাড় পর্যন্ত ছোট ছোট পাহাড়ি ট্রেইলগুলো হাইকিংয়ের জন্য আদর্শ। এখানকার ঝিল আর বনাঞ্চল আপনার মন কেড়ে নেবে। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে চড়ে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় এখানে।

২. টংলু থেকে টুংলিং (দার্জিলিং):
মানেভঞ্জন থেকে আপনার হাইকিং শুরু হতে পারে। পাইন আর রডোডেনড্রনের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে মেঘেদের সঙ্গী করে হাঁটা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বসন্তের আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকেই দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার ‘স্লিপিং বুদ্ধ’ রূপের।

৩. বড়ো মঙ্গলপা (কালিম্পং):
কালিম্পংয়ের এই অফবিট রুটটি বর্তমানে খুব জনপ্রিয়। ছোট পাহাড়ের চড়াই পথ বেয়ে উপরে উঠলে দেখা মিলবে আদিম অরণ্য আর নাম না জানা পাহাড়ি পাখির। হোমস্টে-তে থাকার খরচও এখানে বেশ হাতের নাগালে।

৪. বিহারীনাথ পাহাড় (বাঁকুড়া):
বাঁকুড়ার সর্বোচ্চ এই পাহাড়টি ট্রেকারদের জন্য ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ। পলাশ ও মহুয়া গাছে ঘেরা এই পাহাড়ি পথে হাইকিং করে উপরে উঠলে দামোদর নদের রূপ চোখে পড়ে। সপ্তাহান্তের ছোট ছুটির জন্য এর চেয়ে সেরা গন্তব্য আর হয় না।

৫. সান্দাকফু রুটের শুরু (চিত্রের মাঝামাঝি):
পুরো সান্দাকফু না গেলেও চিত্রের (Chitrey) খাড়া পথ বেয়ে হাইকিং করে মেঘমা পর্যন্ত যাওয়া যায়। বসন্তে রডোডেনড্রনের লাল আভা এই পথকে স্বপ্নময় করে তোলে। বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত বিকল্প।

হাইকিংয়ের জন্য বিশেষ টিপস:
সঠিক জুতো: হাইকিংয়ের জন্য গ্রিপওয়ালা স্পোর্টস শু বা ট্র্যাকিং জুতো সাথে রাখুন।

জলের বোতল: নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে ওআরএস বা গ্লুকোজ জল সাথে রাখা জরুরি।

হালকা ব্যাগ: অযথা ভারী জিনিস না নিয়ে পিঠের ব্যাগে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিন।

সম্পাদকের পরামর্শ: ভ্রমণের আনন্দ নিতে গিয়ে প্রকৃতিকে নোংরা করবেন না। প্লাস্টিক বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy