কৃত্রিম প্রসাধনীর ভিড়ে আমরা যখন দিশেহারা, তখন রূপচর্চায় ফিরে আসছে প্রাচীন এবং প্রাকৃতিক উপাদান ‘মুলতানি মাটি’। যুগ যুগ ধরে দাদী-নানীদের সৌন্দর্যের গোপন রহস্য ছিল এই মাটি। শুধু ত্বক নয়, চুলের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। আপনিও কি রাসায়নিক মুক্ত উপায়ে নিজেকে সুন্দর রাখতে চান? তবে মুলতানি মাটির এই বহুমুখী ব্যবহার আপনার জানা জরুরি।
জেনে নিন ত্বক ও চুলের যত্নে মুলতানি মাটির জাদুকরী কিছু উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম:
১. তৈলাক্ত ত্বকের যম (Oil Control)
যাঁদের ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে এবং ব্রণের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য মুলতানি মাটি আশীর্বাদস্বরূপ। এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত সিবাম শুষে নেয় এবং লোমকূপ পরিষ্কার রাখে।
ব্যবহার: মুলতানি মাটির সাথে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
২. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ট্যান দূর করতে
রোদে পোড়া ভাব বা ত্বকের কালো ছোপ দূর করতে এর জুড়ি নেই। এটি ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
ব্যবহার: ২ চামচ মুলতানি মাটি, ১ চামচ টক দই এবং সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করুন।
৩. চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার
চুল রুক্ষ হয়ে গেছে? মুলতানি মাটি চুলে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং মাথার ত্বকের ময়লা দূর করে। এটি খুশকি কমাতেও অত্যন্ত কার্যকর।
ব্যবহার: মুলতানি মাটির সাথে জল মিশিয়ে চুলে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন, এরপর শ্যাম্পু ছাড়াই ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে রেশমি ও নরম।
৪. ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস নিরাময়
নাকের চারপাশের জেদি ব্ল্যাকহেডস দূর করতে মুলতানি মাটি স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বককে টানটান রাখে এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
সতর্কতা ও ব্যবহারের টিপস:
যাঁদের ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, তাঁরা মুলতানি মাটির সাথে অবশ্যই কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল বা দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করবেন। সরাসরি মাটি ব্যবহারে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
প্রো-টিপ: প্যাকটি মুখে লাগিয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। আধা-শুকনো থাকতেই জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বজায় থাকে।