জিম আর ডায়েটই ওজন কমানোর একমাত্র রাস্তা নয়। শরীরচর্চা এবং নিয়ম মেনে খাবার খেলেও রোগা হওয়া সম্ভব। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটাচলা করলেও ওজন কমানো সম্ভব। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জল খালি পেটে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। গরম জল শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ বের করে দিতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে এবং হজম শক্তিতেও দারুণ সাহায্য করে।
ওজন কমানোর সময়ে অনেকেই প্রোটিন ঠিক মতো খান না। ভরপুর প্রোটিন আছে এমন খাবার অনেকক্ষণ পেট ভরতি রাখতে সাহায্য করে। ফলে বার বার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কম থাকে। অনেকক্ষণ ধরে শরীরচর্চা করার শক্তিও জোগায় উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাবেন এতে পরিপূর্ণতার অনুভূতি বেশি হবে এবং কম খাবেন। বড় প্লেটের বদলে ছোট প্লেটে খাবার পরিবেশন করুন, এতে কম খাবারেও পরিপূর্ণ মনে হবে। ডায়েটের পর্বে শরীরে শক্তি জোগাতেও প্রোটিন খাবার খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
যদি জিম না করেন, তাহলে প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। বাসা বা অফিসে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে মাঝে মাঝে উঠে স্ট্রেচিং করুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন, বিশেষ করে খাবারের আগে এক গ্লাস জল পান করুন। এটি ক্ষুধা কমায় এবং বেশি খাবার থেকে বিরত রাখে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে মেটাবলিজম ভালো কাজ করে। ঘুমের প্রতি যত্নশীল হোন। পর্যাপ্ত ঘুম (৬-৮ ঘণ্টা) না হলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। রাতে জেগে থাকলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে “কমফোর্ট ফুড” খাওয়ার অভ্যাস হয়। মেডিটেশন বা বই পড়ার মতো কাজ করুন যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন ঘরে বসেই ইয়োগা বা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। প্রাকৃতিক খাবার খান। বেশি প্রসেস করা খাবার এড়িয়ে চলুন। শাকসবজি, ফল, প্রোটিন এবং চিপস, মিষ্টি বা ফাস্টফুডের বদলে বাদাম, দই ইত্যাদি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।
ধৈর্য ধরে এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে ওজন কমবে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে। যদি দ্রুত ফল চান, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।