মায়ের গর্ভে দীর্ঘ নয় মাস শিশু এক নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে থাকে। সেখানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলে মায়ের অমরা বা প্লাসেন্টার মাধ্যমে। কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথেই বদলে যায় পৃথিবীর নিয়ম। জন্মের পর শিশুর সেই প্রথম কান্নাই জানান দেয় যে সে বাইরের জগতের সাথে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।
কেন জন্মমাত্রই শিশুর কান্না জরুরি এবং না কাঁদলে কী ঝুঁকি থাকে? জেনে নিন বিস্তারিত:
১. ফুসফুস সচল করার প্রথম ধাপ
মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় শিশুর ফুসফুস বায়ুশূন্য থাকে এবং তাতে অ্যামনিওটিক তরল ভরা থাকে। জন্মের পর শিশু যখন প্রথম চিৎকার করে কাঁদে, তখন সেই তীব্র চাপে ফুসফুস থেকে জলীয় অংশ বেরিয়ে যায় এবং বাতাস ভেতরে ঢোকে। এই কান্নার মাধ্যমেই শিশুর ফুসফুস প্রথমবারের মতো প্রসারিত হয়ে কাজ শুরু করে।
২. রক্তে অক্সিজেনের সঞ্চার
কান্নার সময় শিশু গভীরভাবে শ্বাস নেয়। এই অক্সিজেন তার রক্তে মিশে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে পৌঁছে যায়। প্লাসেন্টার ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে নিজের শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সচল করতে এই প্রথম শ্বাস বা কান্না অত্যন্ত জরুরি।
৩. শরীর থেকে ময়লা পরিষ্কার
কান্নার ফলে শ্বাসনালীতে জমে থাকা শ্লেষ্মা বা মিউকাস পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে শিশুর শ্বাস নেওয়ার পথ সুগম হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
যদি শিশু না কাঁদে, তবে কী বিপদ হতে পারে?
জন্মের পর শিশু যদি না কাঁদে, তবে চিকিৎসকরা একে ‘বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া’ (Birth Asphyxia) বা শ্বাসকষ্টের পূর্বাভাস হিসেবে দেখেন। এর ফলে নিচের সমস্যাগুলো হতে পারে:
অক্সিজেনের অভাব: সময়মতো না কাঁদলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি: অক্সিজেনের অভাবে হার্ট, কিডনি বা লিভারের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।
মৃত্যুঝুঁকি: যদি দীর্ঘক্ষণ শিশু শ্বাস না নেয় বা না কাঁদে, তবে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। এজন্যই শিশু না কাঁদলে চিকিৎসকরা সুড়সুড়ি দিয়ে বা উল্টো করে চাপ দিয়ে তাকে কাঁদানোর চেষ্টা করেন।
চিকিৎসকের তথ্য: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে শিশুর কান্না মানেই তার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রথম ছাড়পত্র। এই কান্নাকে বলা হয় ‘ভয়েস অফ লাইফ’।