চিরযৌবন কি স্রেফ একটি পাউডারেই? কোলাজেন সাপ্লিমেন্টের আসল সত্য ফাঁস!

বর্তমান সময়ে বিউটি ইনডাস্ট্রি এবং ফিটনেস প্রেমীদের মধ্যে সবচাইতে আলোচিত নাম হলো ‘কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট’। ঝকঝকে ত্বক আর মজবুত হাড়ের আশায় অনেকেই প্রতিদিন এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বহুমূল্য এই পাউডার বা ক্যাপসুলগুলো কি সত্যিই কাজ করে, নাকি এটি কেবলই বাজারজাতকরণের একটি কৌশল?

কোলাজেন আসলে কী? সহজ ভাষায়, কোলাজেন হলো শরীরের প্রধান প্রোটিন যা ত্বককে টানটান রাখে এবং জয়েন্টের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক কোলাজেন তৈরির ক্ষমতা কমে আসে, যার ফলে চামড়ায় বলিরেখা এবং জয়েন্টে ব্যথা দেখা দেয়।

বিজ্ঞানের যুক্তি কী বলছে? চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে:

ত্বকের উজ্জ্বলতা ও স্থিতিস্থাপকতা: কিছু সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, টানা ২-৩ মাস হাইড্রোলাইজড কোলাজেন গ্রহণ করলে ত্বকের আর্দ্রতা বাড়ে এবং বলিরেখা কিছুটা হ্রাস পায়। তবে এটি জাদুকরী কোনো পরিবর্তন আনে না।

জয়েন্টের স্বাস্থ্য: ক্রীড়াবিদ এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের ওপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কোলাজেন পেপটাইড জয়েন্টের সংযোগকারী টিস্যু মেরামত করতে এবং ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

পরিপাক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা: অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কোলাজেন খাওয়ার পর তা পাকস্থলীতে গিয়ে অ্যামিনো অ্যাসিডে ভেঙে যায়। অর্থাৎ, শরীর সেই প্রোটিনকে সরাসরি ত্বক বা জয়েন্টে পাঠাবে কি না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ: সাপ্লিমেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে প্রাকৃতিক উৎসের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হাড়ের স্টক (Bone Broth), চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিমের সাদা অংশ এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

সতর্কতা: যেকোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে এটি মনে রাখা জরুরি যে, এর মান ও বিশুদ্ধতা কোম্পানিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy