তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে এবং শরীরকে চনমনে রাখতে আমরা অনেকেই গ্লাসের পর গ্লাস ওআরএস (ORS) বা খাবার স্যালাইন খেয়ে থাকি। বিশেষ করে রোদে বাইরে থেকে ফিরলেই এক প্যাকেট স্যালাইন গুলে খাওয়া যেন এখনকার ট্রেন্ড। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সবার জন্য কি স্যালাইন সমান উপকারী? চিকিৎসকরা কিন্তু দিচ্ছেন এক বড় সতর্কবার্তা।
স্যালাইন কখন ম্যাজিকের মতো কাজ করে?
প্রচণ্ড গরমে ঘামের সাথে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল এবং সোডিয়াম-পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ বা ইলেকট্রোলাইটস বেরিয়ে যায়। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে স্যালাইন অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে যদি কারও ডায়রিয়া, বমি বা হিটস্ট্রোকের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে স্যালাইন জীবনদায়ী হতে পারে।
অকারণে স্যালাইন খাওয়ার বিপদ:
অনেকেই মনে করেন, সাধারণ গরমেও একটু দুর্বল লাগলেই স্যালাইন খাওয়া উচিত। কিন্তু মনে রাখবেন:
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: স্যালাইনে প্রচুর পরিমাণে লবণ (Sodium) থাকে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা আছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন স্যালাইন খেলে তাদের প্রেশার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
কিডনির ওপর চাপ: অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীর থেকে বের করতে কিডনিকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়। যারা আগে থেকেই কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ইচ্ছেমতো স্যালাইন খাওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কতা: বাজারে চলতি অনেক স্যালাইনে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, যা হঠাৎ করে সুগার লেভেল বাড়িয়ে দিতে পারে।
মনে রাখার মতো কিছু নিয়ম:
১. সঠিক মাপ: এক প্যাকেট স্যালাইন সবসময় আধা লিটার (৫০০ মিলি) জলেই গুলবেন। কম জলে গুললে লবণের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে শরীরের ক্ষতি করতে পারে।
২. গরম জল নয়: কখনোই গরম জলে স্যালাইন গুলবেন না বা স্যালাইন গোলানো জল ফোটাবেন না।
৩. সংরক্ষণ: গোলানোর পর ১২ ঘণ্টার বেশি সেই জল রাখা উচিত নয়।
বিকল্প কী?
সুস্থ মানুষের জন্য গরমে সুস্থ থাকতে ডাবের জল, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) বা সাধারণ জলই যথেষ্ট। শরীর খুব বেশি পরিশ্রান্ত না হলে অকারণে ওআরএস এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।





